অবশেষে প্রতিহারী আসিয়া তাঁহাকে ডাকিল। উতঙ্ক ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া একটি কক্ষে প্রবেশ করিলেন। কক্ষের মধ্যে পরিষ্কার একটি প্রদীপ জ্বলিতেছে। সুগন্ধ-তৈল পুড়িবার একটু মৃদু গন্ধ পাওয়া যাইতেছে। চারিদিকে একটি লঘু ধূপের ধোঁয়া উঠিতেছে—কক্ষটির মধ্যে কোন জিনিষ-পত্র নাই—পরিষ্কার!
উতঙ্ক প্রবেশ করিয়া কাহাকেও দেখিতে পাইলেন না। প্রতিহারী তাঁহাকে বসিবার জন্য একটি শঙ্খনির্ম্মিত আসন দেখাইয়া দিলেন। তিনি বসিয়া প্রতিহারীকে জিজ্ঞাসা করিলেন “এখনো কি রাণী আসেন নাই? আমার বড়ই বিলম্ব হইতেছে!”
প্রতিহারী আশ্চর্য্য হইয়া কহিল “ঐ যে শঙ্খনির্ম্মিত শুভ্র-আসনে রক্তবস্ত্র পরিয়া মা শুভশুক্লা বসিয়া আছেন, আপনি কি দেখিতে পাইতেছেন না?”
উতঙ্ক বিশেষ দৃষ্টি করিয়াও কিছুই না দেখিয়া আশ্চর্য্য হইয়া কহিল “প্রতিহারী, তুমি ও কি বলিতেছ! তুমি কি আমাকে উপহাস করিতেছ? কোথায় রাণী বসিয়া আছেন? আমি ত কিছুই দেখিতে পাইতেছি না।”