বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গৃহদেবী - বিজয়রত্ন মজুমদার.pdf/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

»88 শঙ্কন্দুেব । মুখের, পানে, চাহিয়া ছোট একটি পিত্তলের ঘােট হইতে গঙ্গাজল ঢালিয়া চতুর্দিকে ছড়াইয়া দিলেন --অম্বা তাহাণ্ড দেখিল ; ছুটিয়া বাহিরের অন্ধকার ঘরটিতে । ঢুকিবে চৌকীর উপর আছাড় খাইয়া পড়িল । নিজের ভয়াবহ অবস্থায় নানারূপ কুৎসিত কল্পনা সে কতদিন মনে মনে করিয়া রাখিয়াছিল, কিন্তু তাহার বিচরণের স্থানটিতে যে কেহ গঙ্গাজল ছিটাইয়া শুচি-শুদ্ধ করিবে, ইহা সে ভাবে নাই। হিন্দগৃহে পালিত কুকুরের জন্য ও যে একটুখানি শুচিত ত্যাগ করিতে পারেসত্যবতী তাহার জন্য সেটুকুও পারিলেন না দেখিয়া সে আর সহ । করিতে পারিল না । মানব-হৃদয়ের এ কি ভীষণ সঙ্কীর্ণতা ! একদিন যে সত্ত্যবতীর পাশে বসিয়াই তরুণের আহাৰ্য্য প্ৰস্তুতের সাহায্য করিতে পারিল, আজ তাহারই স্পর্শে ঘরখানা ও যে এমন অশুচি হইয়া পড়িবে, অর্মচারের শুচিতায় নিজের সর্বাঙ্গের কালী যেন হাসিয়া ভ্যাংচাইয়া উপহাস,করিতে লাগিল। এ যে কেবলমাত্র, শুচিত রক্ষা নহে, ইহার তলে আরও সুগভীর একটা কিছু আছে তাহা ও অম্বা বুঝিতে পারিল । সকালের সেই কাণ্ডটা সে দেখিয়াছিল, সেই বিশ্ৰী অভিনয়ের ইহা যে শেষাংশ ছাড়া আর কিছুই নহে, তাহাও বুঝিতে তাহার বিন্দুমাত্র দেরী হইল না । তরুণের বিদ্রোহেই যে সত্যবতীর শুদ্ধান্তঃশুচিত সজাগ হইয়া উঠিয়াছে, তাহাও সে বুঝিতেছিল। কিন্তু পক্ষাঘাতগ্রস্থের মত