(কাহিনী)
এটা গোপাল ভাঁড়ের পরিচয় পত্র নয়। কারণ তার পরিচয় সে নিজেই বহন করছে।
গোপাল ভাঁড়-এর কাহিনী কতটা ঐতিহাসিক বা কতটা কাল্পনিক, আজ এ প্রশ্ন ওঠে না। রসরাজ, রসিক-চূড়ামণি, খোশ-গল্প, উপস্থিত-বুদ্ধি ও বাক্চাতুরীতে অদ্বিতীয়। ভাঁড়ের রাজা গোপাল ভাঁড় ছিলেন নদীয়াধিপতি মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার উজ্জ্বলতম রত্ন বিশেষ। গোপাল ভাঁড়ের কাহিনী প্রথম লোকের মুখে মুখে ও পরে ছাপার অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে দেশে ও দশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষিপ্ত কাহিনীর ছিন্ন-সূত্রগুলিই এই নাটকের উপাদান। রস-রসিক গোপাল ভাঁড়ের জীবন-নাটকের পরিণতি এই সব মাল-মশলা থেকে।
সে সময় বাঙলা দেশে চোর-ডাকাত ও বর্গীর হাঙ্গামা বড়ই প্রবল। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পাইক ভজহরি সদরে ফিরছিল খাজনা আদায় করে। এমন সময় ডাকাতে তাকে তাড়া করে। প্রাণভয়ে পালিয়ে ভজহরি এসে আশ্রয় নেয় গোপালের বাড়ীতে। উপস্থিত-বুদ্ধি ও বাকচাতুর্য্যে গোপাল ডাকাতদের হাত থেকে তার আশ্রিতকে রক্ষা করে। খাজনার টাকাগুলিও রক্ষা পায়। কৃষ্ণচন্দ্র সে বৃত্তান্ত শুনে গোপালের ওপর মহাখুশী। তাকে নিজ বয়স্য পদে নিয়োগ করে গুণীর সমাদর করেন।