বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গোপাল ভাঁড় - প্রচার পুস্তিকা (১৯৫৩).pdf/৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

(২)

 গোপালের সংসারের অবস্থা ক্রমশঃ ভাল হতে থাকে। রাজ-অনুগ্রহে তার সম্মান ও আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভের পথ সুগম হয়। কিন্তু গোপাল-ঘরণী আন্নাকালী এতেও যেন সুখী নয়। সে আব্দার ধরে তার দোতালা বাড়ী চাই। চতুর-চূড়ামণি গোপালের কৌশলও ব্যর্থ হবার নয়। মহারাজকে সে-দাবী মেটাতে হয়।

 এদিকে কৃষ্ণচন্দ্রের সভার আর দুজন সভাসদ, শাক্ত রামপ্রসাদ ও বৈষ্ণব আজু গোঁসাই—এদের মধ্যে একটা রেশারেশি ভাব চিরকাল বিদ্যমান। পরস্পর পরস্পরকে বাকযুদ্ধে পরাজিত করবার প্রচেষ্টা চলত সর্ব্বদা। খেলার ছলেই মহারাজ উভয়ের এই দ্বন্দ্ব উপভোগ করতেন। কিন্তু সভার আর সকলে সাধক রামপ্রসাদকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা তার অপরূপ গানের টিপ্পনী করার জন্য আজু গোঁসাই-এর প্রতি বিরূপ হয়ে পড়ল। অবশ্য অন্তর থেকে দুজনেই দুজনকে শ্রদ্ধা করতো।

 গান থেকে যে বিতর্কের সূত্রপাত, সেই তর্কযুদ্ধে শান্ত স্বভাব কবি রামপ্রসাদ হেরে গেলেন। তাঁর পরাজয়ের গ্লানি গোপালকে উত্তেজিত করে তুললো। নিরীহ মানুষটি অপদস্থ হওয়ায় তার চিত্ত বিক্ষুব্ধ হ’ল। গোপাল দাঁড়িয়ে উঠে পাল্টা গানে অতি তীব্র ভাবে গোঁসাইকে আক্রমণ করল। মহারাজ এই দৃশ্যটি উপভোগ করলেন। নিছক রঙ্গ-কৌতুকের মধ্যে এই ঘটনাটী ঘটে গেলেও গোপালের উদারতা ও রসিকতায় মহারাজ ও আর সবাই মুগ্ধ হলেন।

 এমনি ভাবে আমোদ, আহ্লাদ ও রসকৌতুকের মধ্য দিয়ে গোপালের দিন গুলি বেশ সুখে কাটছিল। হঠাৎ একদিন গোপালের স্ত্রী আব্দার ধরে বসলো