বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গোপাল ভাঁড় - প্রচার পুস্তিকা (১৯৫৩).pdf/৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

(৩)

মেয়ে-জামাইকে আনবার জন্যে। দিন নেই, রাত নেই,—সময় নেই, অসময় নেই আন্নাকালী গোপালকে উত্যক্ত করে তোলে। গোপাল বিপদ গোনে—উপায় খোঁজে। উপস্থিত বুদ্ধির দ্বারা সে আন্নাকালীকে এমনি জব্দ করলে যে আন্নাকালী আর পালাতে পথ পান না। এখানেও গোপালের জয় হয়।

 ইতিমধ্যে একদিন খবর এলো নবাব সাহেব মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে এগারো লক্ষ টাকা রাজস্ব দাবী করে বসেছেন, অনাদায়ে তাকে বন্দী করা হবে তাও জানিয়েছেন। কিন্তু বর্গীর উৎপাতে প্রজারা তখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। রাজস্ব আদায়ের অভাবে রাজকোষ শূন্য। অতএব মহারাজ বন্দী হলেন। গোপাল কিন্তু ছাড়বার পাত্র নয়—সে মহারাজকে ছলে-বলে, নয় নিছক কৌশলে মুক্ত করবেই—তবেই তো তার নামের সার্থকতা।

 গোপাল নবাব সাহেবের কাছে আর্জি পেশ করতে গিয়ে, কথায় কথায় রাজী হয়ে ফিরে এলো যে সে বর্গী দমন করবে। সেই সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতিও নিয়ে এলো যে এই বর্গী দমন করতে পারলেই মহারাজ সসম্মানে মুক্তি পাবেন এবং বকেয়া সমস্ত খাজনাও মকুব করে দেবেন।

 খেয়ালের বশে গোপাল তো বুক ঠুকে বীরত্ব দেখিয়ে চলে এলো—কিন্তু এখন উপায়? নিরীহ, ভীতু গোপাল জীবনে যে কোনদিন অস্ত্র কাকে বলে তাই জানে না, কেমন করে সে এই দুর্দ্ধষ্য বর্গীদের সঙ্গে লড়াই করবে, আর তেমন অস্ত্র শস্ত্রই বা সে কোথায় পাবে? তাহলে উপায়?

 কত নতুন নতুন ঘটনার সাহায্যে বুদ্ধির যুদ্ধে ও কৌশলে গোপাল ভাঁড় প্রতিপক্ষকে পরাভূত করে নিজের অসাধারণত্ব প্রমাণ করেছে, আলোচ্য জীবনী-চিত্রে তারই পরিচয় পরিস্ফুট।