সঙ্গীতাংশ
(১)
মায়ের এমনি বিচার বটে
যে জন দিবানিশি দুর্গা বলে
তার কপালে বিপদ ঘটে।
হুজুরেতে আর্জ্জী দিয়ে মা
দাঁড়িয়ে আছি করপুটে
কবে আদালতে শুনানী হবে মা
নিস্তার পাব এ সঙ্কটে।
সওয়াল জবাব করব কি মা
বুদ্ধি আমার নেইকো ঘটে
ওমা ভরসা কেবল শিববাক্যে
ঐক্য বেদাগমে রটে।
প্রসাদ বলে শমন ভয়ে মা
ইচ্ছে হয় পালাই ছুটে
যেন অন্তিমকালে দুর্গা বলে
প্রাণ ত্যেজি জাহ্নবীর তটে।
—রামপ্রসাদী।
(২)
মধু যামিনী গো তুমি যেওনা চ’লে
প্রিয় নাহি এলে;
(হায়) চাঁদ যদি ডুবে যায়
যাবে গো আশা,
বিরহে কাঁদিবে বুকে ভালবাসা
প্রেমের গোপন বাণী হবে না বলা
নিশি প্রভাত হ’লে।
(হায়) দিবসে যে বিরহ বুকে জেগে রয়
রাতের ছোঁয়ায় সে যে হয় মধুময়,
আঁখি পাতে রচে প্রেম, কত না স্বপন,
বুকে আশা দোলে॥
—চারু মুখার্জ্জি।
(৩)
এ সংসার ধোকার টাটি
ওভাই আনন্দ বাজারে লুটি,
এ সংসার ধোঁকার টাটি।
রমনী বচনে সুধা
সুধা নয় সে বিষের বাটি,
আগে ইচ্ছে সুখে পান করে সে
আনন্দে রামপ্রসাদ বলে—
আধ পুরুষের আধ মেয়েটী
তোমার যা ইচ্ছে হয় তাই কর মা
তুমি তো পাষাণের বেটী
—রামপ্রসাদী।
(৪)
এ সংসার রসের কুটি
(আমি) খাই দাই আর মজা লুটি
এ সংসার রসের কুটি।
রমনীরে বিষ ভেবেছ
তাতেও তো দেখিনা ত্রুটি,
তুমি ইচ্ছে সুখে ফেলে পাশা
(অমন) কাঁচিয়ে দেছ পাকা ঘুঁটি॥
—আজু গোঁসাই।
(৫)
রাই জাগো রাই জাগো বলে
ডাকে শুক সারী,
গোপাল গোবিন্দ জাগো
জাগো রে মুরারী॥
রাতের আঁধার নাশি
প্রভাত দাঁড়াল আসি,
মুছে ফেল ঘুম ঘোর
জাগো পুরনারী॥
—চারু মুখার্জ্জি।
(৬)
মনরে আমার এই মিনতি
তুমি পড়া পাখী হও করি স্তুতি,
মনরে আমার এই মিনতি।
যা পড়াই তাই পড় মন
প’ড়লে শুনলে দুধি ভাতি,
জান না কি ডাকের কথা
না পড়িলে ঠেঙ্গার গুতি।
তাই কালী কালী কালী বল মন
কালী পদে রাখ প্রীতি॥
—রামপ্রসাদী।
(৭)
হয়োনা মন পড়া পাখী
(ওরে) বন্দী হ’লে হয়না সুখী
হয়োনা মন পড়াপাখী।
পাখী হ’লে তত্ত্ব ভূলে
দিন যাবে পিঞ্জরে থাকি,