পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করচা ○> লোভ করি কতবার এ পাপ নয়ন প্রভুর ফলের পানে চাহে অদ্ভূক্ষণ ॥ গৌরাঙ্গ সুন্দর তাহে ঈষৎ হাসিয়া। নিজ ফল দুটি দিলা আমারে ধরিয়া ॥ কেমনে খাইব ফল ত্রাস হয় মনে। অমনি পড়িল মনে অঞ্জন-নন্দনে ॥ সাত পাচ ভাবি মুঞি ফল নাহি খাই । হাসিয়া বলিলা তবে চৈতন্য গোসাই ॥ অষ্টি নাহি বাধিবে গোবিন্দ তোর গলে । প্রসাদ পাইতে কিছু না করিহ ছলে । ফল খাইবার ইচ্ছা হয়েছে প্রবল । আটি বাধিবার ভয়ে হইছ বিকল ॥ মনের কথাটী যবে কহিলা গোসাই । অমনি রাখিয়া ফল চরণে লোঠাই ॥ প্রভুর আদেশে শেষে খাইতে হইল। আর দুটা ফল আনি দ্যাসী যোগাইল ॥ ভোজনাস্তে নিবরেতে আজলি পাতিয়া । জলপান করিলাম আনন্দিত হিয়া ॥ সুশীতল মুনিৰ্ম্মল নিৰ্ব্বরের জল । পান করি সব অঙ্গ হইল শীতল ৷ হরি নামে মত্ত প্ৰভু প্রেম উপজিল। কদম্বের মত অঙ্গ শিহরি উঠিল । প্রেমভরে খুলে গেল জটার বন্ধন। চরণে চরণ বাধি পড়িল তখন ॥ কপাল কাটিয়া গেল পাথরের ঘায় । রুধিরের ধারা কত পড়িল ধরায় ॥ মুখে লাল বহে কত জল নাসিকায়। জড়ের সমান পড়ি রহে গোর রায় ॥ ইহা দেখি সন্ন্যাসীর ভক্তি উপজিল । প্রভুর চরণে পড়ি কাদিতে লাগিল ॥ পোড়া কাষ্ঠ সম দেহ অঙ্গে নাহি বাস খুলিল জটার ভার বহিল নিশ্বাস। শ্মশ্র বহি অশ্রুধারা বহিতে লাগিল । প্রেমে সেই পোড়া কাষ্ঠ ফুলিয়া উঠিল। চেতনা পাইয়া তবে মোর প্রভুবর। উঠিয়া বসিল অঙ্গ ধুলায় ধূষর ॥ ছটফট করিতে লাগিল দ্যাসিবর। প্রভুরে নেহারি বলে তুমি সে ঈশ্বর। সন্ন্যাসীর বাক্যে প্রভু কর্ণে দিয়া হাত । বার বার বলে দ্যাসী ছাড় ইহ বাত ॥ সন্ন্যাসী কহিলা তুমি কভু নহ নর। প্রভু কহে ন্যাসী তুমি আমার ঈশ্বর ॥ আশ্চৰ্য্য তোমার প্রেম ঈশ্বরের প্রতি । তোমারে হেরিলে হয় পাষণ্ড সুমতি ॥ বক্স নাই পাত্র নাই স্পৃহা নাহি ধনে। কোটি কোটি নমস্কার তোমার চরণে ॥ পার্থিব মুখের বশীভুত নহ তুমি । তোমাকে দেখিলে তুচ্ছ হয় স্বর্গভূমি । তার পরে তৃপদীনগরে প্রভু যায়। শ্রীরামের মূৰ্ত্তি দেখি পড়িলা ধূলায়। বহুতর রামাত বৈষ্ণব তথা থাকে। বিচার করিতে তারা ফেরে কত পাকে মথুরা নামেতে এক রামাত পণ্ডিত । বড়ই তার্কিক বলি নগরে বিদিত ॥ প্রভুর সম্মুখে আসি বিচার মাগয়ে । জোড়হাতে প্রভু কন জড় সড় হয়ে ॥ মথুরা ঠাকুর মুহি বিচার না জানি । তোমার নিকটে শতবার হারি মানি ॥ ঐরামের ভক্ত তুমি বৈষ্ণব গোসাই। তোমারে ভজিলে কত তত্ত্ব কথা পাই ॥ বিরক্ত রামাত হয়ে জিগীষার বশী। শুক্লবক্সে কেন দাও দুই হাতে মসী ॥ বল কিছু তত্ত্বকথা শুনিয়া শ্রবণে । পবিত্র হউর্ক লোক তোমার বচনে ॥