পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


‘වීA গোবিন্দ দাসের করচা প্রভূরে দেখিয়া সেই বিরক্ত সন্ন্যাসী। পুলকে বিভোর হৈল আনন্দেতে ভাসি ৷ সেই স্থানে দিন কত থাকি গোরা রায় । আননে মাতিয়া প্রভু হরি গুণ গায় ॥ আশ্চৰ্য্য মানিয়া তবে সুরেশ্বর ন্যাসী । প্রভুর সহিতে নাচে প্রেমনীরে ভাসি ॥ জয়সিংহ ভূপতির রাজ্য সেই থানে । কর নাহি লন রাজা সন্ন্যাস’র স্থানে ॥ বৈকণ্ঠ ধামের তুল্য সেই স্থান হয়। প্রবেশিলে সেই স্থানে জুড়ায় হৃদয় ॥ সেই বন ছাড়ি তবে শচীর নন্দন । পদাকোট তীর্থে চলে করিতে দর্শন । পদ্মকোট দেবী অষ্টভুজা ভগবতী । সেই খানে প্রভু গিয়া করিণা প্রণতি ॥ বহু স্তুতি কৈল। তবে মোর গোর রায় । দেখিতে তাহারে শত শত লোক ধায় ॥ সেই খানে প্রভু বসি উপদেশ দিলা । কত শত লোক তথি আসিয়া জুটিলা ॥ প্রভু বলে সবে ভাই কর হরিনাম । নাম বলে সবে ভাই পাবে নিত্য ধাম ॥ বল দেখি জড় দেহে কিবা প্রয়োজন । মারলে শৃগালে কাকে করিবে ভক্ষণ । মায়াজালে পড়িয়াছ তোমরা সকলে । সাল ছিড়ে ফেল ভাই হরিনাম বলে ॥ কেবা কন্যা কেবা পুত্র সব মিছে ভাণ। আমার আমার করি সবে হতজ্ঞান ॥ তুমি কার কে তোমার কেবা আত্মপর। - মায়াবিটি খেলিতেছে যেন বাজীকর । যারা করে সংসারেতে বিষয়বাসন । যাতায়াতে পায় তারা অনেক যাতন ॥ গর্ভের ভিতরে করে বিষ্ঠা মাঝে বাস । মল মুত্র খাইয়া পুরায় অভিলাষ ॥ জড়দেহে চিৎ বুদ্ধি যাহাদের হয়। কেমনে উত্তীর্ণ হবে তাহারা নিরয় ॥ যারা অবয়বে অবয়বী জ্ঞান করে। চিরবাস করে তারা নরক ভিতরে ॥ সংসার বিষম ফাদ না জানিয়া লোক । সেই ফঁাদে পড়ি সবে পায় বহু শোক । আত্মার মরণ নাই মরে পাপ দেহ । ভ্ৰমে মায়ামুগ্ধ জীব দেহে করে স্নেহ ॥ এই উপদেশে সবে আশ্চৰ্য্য হইল । অষ্টভূজা দেবী যেন কঁাপিতে লাগিল ॥ চৈতন্য প্রভুর মুখে শুনি হরিধ্বনি । চারিদিকে প্রতিধ্বনি হুইল অমনি । বালক বালিকা যুব ক্ষেপিয়া উঠিল। অষ্টভূজা দেবী যেন দুলিতে লাগিল ॥ পদ্মগন্ধ চারিদিকে লাগিলা বহিতে । সেই খানে পুষ্পবৃষ্টি হৈলা আচম্বিতে ॥ যতেক রমণীজন ফুল দেয় শেলি । ভক্তিভরে রমণীরা করে ফুল-কেলি ॥ সেইখানে ছিল এক অন্ধ সাধুজন। ভক্তিভরে ধরিলেক প্রভুর চরণ ॥ প্রভু বলে ছাড় মোরে অহে সাধুবর । অন্ধ বলে কৃপা কর জগৎ-ঈশ্বর ॥ প্রভূ বলে এই খানে জগৎ-ঈশ্বরী। মন্ধ বলে দীন জনে দয়া কর হরি ॥ দয়া কর মোরে তুমি প্রভু দয়াময়। না দেখিয়া তব রূপ কঁাদিছে হৃদয় ॥ আমি অন্ধ দুরাচার দেখিতে না পাই । দেখাও আমারে রূপ চৈতন্থ গোসাই ॥ প্রভু বলে চৰ্ম্ম চক্ষু নাহিক তোমার । জ্ঞান চক্ষে দেখ তুমি অন্তর সবার। অজ্ঞ লোক চক্ষু দিয়া করে দরশন। জ্ঞানবান দেখে সব মুদিয়া নয়ন।