পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করট । ᏔᏱ☾ প্রকাও বাগিচা নাম পিয়ার কানন। কাননের ধারে প্রভু করিলা গমন ॥ অতি বড় নিন্ধ বৃক্ষ আছে এই স্থানে। কি ভাবিয়া প্রভু গিয়া বসিলা সেথানে ॥ আজ্ঞা পেয়ে মুহি যাই গৃহস্থের দ্বারে। ফল মূল আদি কিছু ভিক্ষা করিবারে । যেখানে যে গহনা সাজয়ে রঙ্গনাথে । বানাইয়া লৈয়া গেল আপনার সাথে ॥ পুজারি কহেন পুনঃ বেখ্যার সামগ্রী। কতু নাহি হয় ইহা ঠাকুরের যোগী ॥ ইহা শুনি তার মুখ মলিন হইল। অশ্রু ধার ছনয়নে পড়িতে লাগিল ॥ ঘরে গিয়া উপবাসী পড়িয়া রহিল। পরাণ ছাড়িব বলি প্রতিজ্ঞ কয়িল ॥ দয়াল হরি না বাছিল উত্তম মধ্যম । যেই গ্ৰীতি করে সেই হয় প্রিয় মম ॥ পুজারীরে আদেশ করেন ক্রোধে হরি । শীঘ্ৰ বারমুখীরে আনহ স্তুতি করি । বারমুখী নিজ হস্তে পরাবে গহন । তুমি তারে শিষ কর না করিহ ঘূণ । পুজারী কঁপিয়ে ডরে তখনই চলিল । মিনতি করিয়া গিয়া ডাকিয়া আনিল ॥ তার নিজ হস্তে অলঙ্কার পরাইয়া । সেবক করিয়া গিয়া মন্ত্র উপদেশ দিয়া ॥ বারমুখী ঠাকুরাণী আনন্দ সাগরে। প্রেমানন্দে মধুপান করিয়া সাঁতারে ॥ সৰ্ব্বস্ব লুটায়ে কৈল মহামহোৎসব। বিষ ত্যজি পান কৈল কমল আসব ॥ এই বিবরণের সঙ্গে করচার প্রদত্ত ঘটনা মিলাইয়। পড়িলে দেখা যাইবে, জন-প্রবাদ ও চাক্ষুষ ঘটনার কি প্রভেদ । করচায় যে সকল খুটি নাটি কথা আছে, ৰখা বালাজি নামক দুষ্ট বিপ্রের কথা—বাগানের নামটি পিয়ারী কানন, বারমুখীর মীর নামক দাসীর কথা—এ সমস্তই বাস্তব ছবি। ভক্তমালে স্বপ্নদর্শন প্রভৃতি অলৌকিক ঘটনা আনিয়া বর্ণনাটির জন-প্রবাদ মুলক বাহুল্য প্রতিপন্ন করিতেছে। W l ভিক্ষা কয়ি আইলাম দিব। দ্বিপ্রহরে। ভোগ লাগাইল প্রভু প্রফুল্ল অস্তরে। প্রসাদ পাইমু তবে মোরা তিন জনে। মুহি রামানন্দ আর গোবিন্দ চরণে ॥ হাসিয়া গোবিন্দ মুহি মিতে বলি ডাকি । প্রভু বলে রামানন্দে কেন দেহ ফাকি ৷ গোবিন্দ যদ্যপি মিতে হইল তোমার । তবে রামানন্দ মিতে হইল আমার ॥ হাসিতে হাসিতে রামানন্দে মিতে বলি। নাম আরম্ভিলা প্রভু দিয়া করতালি ॥ প্রভু মুখে রামানন্দ একথা শুনিয়া । এক পাশ্বে দাণ্ডাইল হাত কচালিয়া ॥ বহুতর লোক জুটে নাম শুনিবারে। অশ্রুবহে প্রভুর নয়নে শত ধারে ॥ পিচকিরি সম অশ্রু বহিতে লাগিল । তাহা দেথি ঘোগাবাসী জুশ্চির্য্য হইল। দেখিয়া প্রভুর সেই হরিসঙ্কীৰ্ত্তন। মাতিয়া উঠিল প্রেমে দুই চারি জন ॥ গ্রাম্য লোক জনের নয়নে বহে বারি। বহু লোক আসি দাড়াইলা সারি সারি ॥ কেমন ভক্তির ভাব কহনে না যায় । অনিমিষে প্রভুর বদন পানে চায় ৷ কখন হাসিছে প্রভু কখন কাদিছে। কখন বা বাহু তুলি নাচিছে গাইছে। থর থর কাপে কভু ঘৰ্ম্ম বারি বহে। কখন বা প্রেমাবেশে চুপ করি রহে ॥ কখন টলিছে রোমাঞ্চিত কলেবরে। প্রাণ কৃষ্ণ বলি কভু ডাকে উচ্চস্বরে ৷ ঈশ্বরের প্রেমে মত্ত নবীন সন্ন্যাসী। এই কথা কাণ কাণি করে ধোগাবাসী ॥ হরি হরি বলিতে আনন্দ ধারাবহে । পুতুলের প্রায় সবে দাণ্ডাইয়ারহে।