পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করচা - بهوا লোক জন চারিধারে একথা তুলিয়া । মহা কোলাহল করে হাসিয়া হাসিয়া f ক্ষণকাল-পরে বেশু নামিয়া আসিল । মিরানামে তার দাসী পেছনে চলিল। বারমুখী বলে তবে বিনয়ে মিরারে। আজি হৈতে সৰ্ব্ব ধন দিলাম তোমারে। বহু অর্থ আছে মোর সব তুচ্ছ করি। আজি হৈতে হইলাম পথের ভিকারী ॥ এলাইয়া দিলা কেশ বারমুখী দাসী। স্থির বিদ্যুতের পাশে যেন মেঘরাশি। নিতম্ব ছাড়িয়া পড়ে দীর্ঘ কেশ জাল। নয়ন মুদিয়া রহে শচীর দুলাল ॥ আশ্চৰ্য্য রূপের ছটা সকলে দেখিয়া । তাহার বদন পীনে রহে তাকাইয়া ॥ বারমুখী হাত জোড়ি কহে বার বার। বন্ধন কাটিয়া দেহ সন্ন্যাসী আমার ॥ বড়ই পাপিষ্ঠ মুহি নরকের কীট। যদি দয়া নাহি কর যুব পিট পিট ॥ দাসীরে বলিয়া দেহ কিসে ত্রাণ পাব । মরণাস্তে যমভয় কিরূপে এড়াব । এই পাপ দেহে আর কিবা প্রয়োজন । এত বলি দীর্ঘ কেশ করিলা ছেদন ॥ সামান্ত বসন পরি লজ্জা নিবারিল। জোড় হস্তে গ্রভূর সম্মুখে দাড়াইল ॥ প্রভু বলে বারমুখী দুই চারি কথা । তোমারে কহিয়া দেই করহ সৰ্ব্বথা ॥ এই স্থানে করি তুমি তুলসী কানন। তার মাঝে থাকি কর কৃষ্ণের সাধন ॥ তুমি কৃষ্ণ তুমি হরি বারমুখী বলে। এই মাত্র বলি পড়ে.প্রভূ-পদতলে ৷ বারমুখী পদতলে যখন পড়িল । তিন চারি পদ প্ৰভু অমনি ছটিল। আর যত লোক ছিল কাছে দাড়াইয়া । ধন্ত ধন্ত করে সবে বেঙ্গারে দেখিয়া ॥ মিরাবাই দাসী বহু কান্দিতে লাগিল । হাসিমুখে বারমুখী তাহারে কহিল। কাণ দিয়া শুন মিরা আমার বচন । তোমারে দিলাম মোর যত আছে ধন ॥ ভাল রূপে সেবা কোরো অতিথি আইলে । হরিনামে মন দিও বসিয়া বিরলে ৷ না করিবে পাপ কৰ্ম্ম মোর দিব্য লাগে । ভজিবে ঐরাধাকৃষ্ণ প্রেম অনুরাগে ॥ প্রেম করা ভাল বটে ধূৰ্ত্ত সহ নয়। কৃষ্ণের সহিত মিরা করিও প্রণয় ॥ দেহ মন প্রাণ সব কৃষ্ণে সমপিবে । তাহা হৈলে নিত্য ধন কৃষ্ণেরে পাইবে ॥ শুনহ আমার কথা মিরা মন দিয়া । কারো সঙ্গ না করিবে কৃষ্ণেরে ছাড়িয়া ॥ অবষ্ঠ কৃষ্ণের কৃপা তোমারে হইবে। প্রাণপণে কৃষ্ণ ধনে কভু না ছাড়িবে ॥ প্রভুর কৃপায় মোর কেটেছে বন্ধন। আজি হৈতে বাসস্থান তুলসী কানন ॥ এত বলি বারমুখী লয়ে জপমালা । তুলসী কানন করে ভুলি সব জ্বালা । বারমুখী কুলটারে প্রভু ভক্তি দিয়া । সোমনাথ দেখিবারে চলিল ধাইয়া ॥ জাফেরাবাদের দিকে প্ৰভু চলি যায়। বহু কষ্টে তিন দিনে পৌছায় তথায় ॥ জাফরাবাদ লোক বড় হুঃখী হয় । কিন্তু অতিথির বহু সন্মান করয় ॥ গ্রামবাসী বহু লোক ভিক্ষণ আনি দিল । রুটি করি প্রভু মোর ভোগ লাগাইল । প্রবেশিয়। একজন মালীর বাগানে। যাপিলাম রাত্রি মোরা আনন্দিত মনে ॥