পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


موارا প্রভাতে উঠিয়া মোরা সোমনাথে যাই । ছয় দিন পরে গিয়া সেখানে পৌছাই ॥ নাহিক পূর্কের শোভা নাহি সে মন্দির। দুঃখের অবস্থা দেখি চক্ষে বহে নীর ॥ ঢিবি ঢাবা ভাঙ্গ। চিহ্ন আছে সেই খানে । দেখিয়া আঘাত বড় লাগিল পরাণে ॥ মন্দির বাড়ীর শোভা গিয়াছে চলিয়া । ইহা দেখি প্ৰভু মোর আকুল কাদিয়া ॥ কান্ধিয়া আমার প্রভু বলিতে লাগিল । দুরাত্ম যবন আসি কি দশা করিল ॥ কোথা লুকাইলে প্রভু যবনের ভয়ে। একবার দেখাদিয়া জুড়াও হৃদয়ে। হায় হয় ইহ দুঃখ কহনে না যায় সেমিনাথে উদ্দেশিয়া কানো গোরা রায় ॥ প্রভু বলে এত শোভা কেবা হরে নিল । অর্থের লাগিয়া দুষ্ট এদশ করিল। অহে প্ৰভু সোনাথ তোমারে দেখিতে। আকু বাকু করে প্রাণ ন৷ পারি সহিতে ॥ তোমার বিরহ আর সহ নাহি হয়। তোমারে উদ্দেশ করি ফাটিছে হৃদয় ॥ হায় হায় ভক্তগণ কি পাপ করিল। কি পাপে তোমারে দেব আর না হেরিল ॥ তোমার বিরহে শত শত পাণ্ডাগণ । দুঃখের সাগরে অাছে হয়ে নিমগন । তুমি কি যবন ভয়ে কৈলাসে যাইয়া। প্রিয় ভক্তগণে এবে রহিলে ভুলিয়া ॥ এ সকল দেখি মোর হৃদয় ফাটিছে। বুকের মাঝারে অঞ বহিয়া পড়িছে। আহা মরি ভগ্নশেষ রয়েছে পড়িয়া । পাপ চক্ষুঃ সহ করে কেমন করিয়া ॥ এস প্ৰভু সোমনাথ অস্তরে আমার । হৃদয়ের মধ্যে হেরি মুরতি তোমার ॥ | | i ! t ; | i গোবিন্দ দাসের করচা কোথায় লুকালে প্রভু না দেখি তোমারে। কেমন করিছে প্রাণ কহিব কাহারে । হায় হায় গঙ্গাধর তোমারে দেখিতে । আর না আসিবে লোক বিদেশ হইতে ॥ দেখিতে আসিত যাত্রী গৌরব করিয়া । এবে কিন্তু সে গৌরব গিয়াছে মুছিয়া ॥ দ্বেষ ভরে যবনের অত্যাচার করি। মণি মুক্ত আদি আদি ধন লইরাছে হরি ॥ হায় প্রভু স্মরহর কোথায় রহিলে। কৃপা করি ভক্ত জনে দেখা নাহি দিলে । এই রূপে প্ৰভু মোর পরিতাপ করে। হেন কালে ঝড় উঠে আকাশ উপরে ॥ ধূলা উড়ে চারিদিক কৈলা অন্ধকার। পাণ্ডাগণ বন্ধ করে কুটীরের দ্বার ॥ বাহিরের দ্বারে বসি আমরা সকলে । হরিবোলা প্রভু আসি বসে মধ্যস্থলে ॥ হেনকালে অবধৌত সন্ন্যাসী আসিয়া। বার বার গোরা চাদে দেখে তাকাইয়া ॥ সব গায় ভষ্ম মাথা নাহিক বসন । উভ করি জটা বাধা আশ্চৰ্য্য গঠন ॥ লোহিত বরণ র্তার হয় চক্ষুদ্ধয় । মুখে হর হর শব্দ পবিত্র হৃদয় ॥ ঢুলু ঢুলু ঘটি আঁখি দেখিতে মুলার। আশীৰ্ব্বাদ করে আসি উৰ্দ্ধ করি কর ॥ উঠিলা আমার প্রভু তাহারে দেখিয়া । অস্তহিত হৈলা তবে কি যেন বলিয়া ॥ ধূলা উড়ে চারিদিক্‌ করেছে আঁধার। অবধৌত কোথা গেল নাহি দেখি আর ॥ ৯

  • লেখার ভাবে মনে হরপযন গোবিন্দ দাস এই সন্ন্যাসীকে শিব ( সোমনাথ ) বলিয়া অনুমান করিয়৷ ছিলেন, যদিও তিনি একথা স্পষ্ট করিয়া বলেন নাই।