পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 মোর পানে চেয়ে বলে দ্বারকায় গিয়া । চরিতার্থ হও সবে প্রণাম করিয়া । সব অঙ্গে মাখ রজঃ অতি ভক্তি করি । দেখিলে পুণ্যের ফলে দ্বারকা নগরী ॥ পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব জনমের স্বকৃতের বলে । দ্বারকা নগরী অজি দেখিলা সকলে ॥ এত শুনি সবে মিলি প্রণাম করিল। গোরার আনন্দ কৃপ উথলি উঠিল । হরিবোল হরিবোল বলিতে বলিতে । ক্রমে উতরিয়া প্ৰভু হেলিতে দুলিতে । ভাবসিন্ধু উথলিল মৰ্য্যাদা * লজিঘয়া । কার সাধ্য রাখে আর প্রভুরে ধরিয়া ॥ উলটি পালটি পড়ে পৃথিবী উপরে। ক্রমে ক্রমে প্রবেশিল পুরীর ভিতরে ॥ লোমাঞ্চিত কলেবর র্কাপিতে লাগিল । নয়ন ফাটিয়া যেন অশ্রু বাহিরিল ॥ কোথা হে দ্বারকাধীশ এই কথা বলি । অশ্রুজলে ভাসাইলা দ্বারবর্তী স্থলী ॥ সব এলোথেলো জটা খসিয়া পড়িল । অতি উচ্চরবে গোর কাদিয়া উঠিল ॥ কি কব ভাবের কথা কহনে না যায় । বার বার কৃষ্ণ বলি প্রভু ফুকরায় । স্বারকাধীশের বাড়ী যবে প্রবেশিলা । অমনি দ্বিগুণ ভাবে আনন্দে মাতিলা ॥ কদম্বের ন্যায় শিহরিল কলেবর : উলটি পালটি পড়ি ধূলায় ধূসর। ভাবে মাতোয়ারা প্রস্তু ঢুলু ঢুলু চায়। স্বারকাধীশের আগে ধরণি লোটায় ॥ চারিদিকে পড়ে যেন ভক্তি উছলিয়া । ফুলে ফুলে কান্দে মোর গোরা বিনোদিয়া ॥ মর্যাদা = সীমা । গোবিন্দ দাসের করচা নয়ন মুদিয়া কভু অন্তরেতে চায়। - অস্তরের মধ্যে যেন কি দেখিতে পায় ॥ কখন বা উৰ্দ্ধমুখে তাকাইয়া রছে। . নয়ন হইতে অশ্রু দর দর বহে ॥ কৃষ্ণেরে দেখিয়া তনু পুলকে পুরিল। এক দৃষ্টে তার প্রতি চাহিয়া রহিল ॥ শ্ৰীমন্দির প্রদক্ষিণ করে তিন বার। নম্র হয়ে প্রতিবার করে নমস্কার ॥ অষ্টাঙ্গে প্রণাম কবে গোরা বিনোদিয়া । তাহা দেখি ভৰ্গদেব পড়ে লোটাইয়া ॥ দ্বারকার মধ্যে ক্রমে হৈল জানা জানি। সকলে প্রভুর কথা করে কাণ কাণি ॥ কেহ বলে সন্ন্যাসী দেখিতে চল ভাই । এমন সন্ন্যাসী কেহ কভু দেখে নাই ॥ কি কব ইহার কথ। কহনে না যায়। এমন সন্ন্যাসী বুঝি না আছে ধরায় । এমন আশ্চৰ্য্য ভাব কভু দেখি নাই। সন্ন্যাসীর রূপে গুণে বলিহারি যাই ॥ দেখিলে তাহারে ভক্তি উপজয়ে মনে । অশ্রু আসি দেখা দেয় আপনি নয়নে ॥ ইচ্ছা হয় সন্ন্যাসীর সঙ্গে চলে যাই । বন্ধন কাটয়ে তারে দেথ যদি ভাই ॥ দেখিলে সংসারে আর-নাহি থাকে রুচি। সেরূপ দেখিলে পাপী হয় সন্ত শুচি ॥ এমন দয়াল আর নাহি দেখা যায়। দয়া করে হরিনাম সকলে বিলায় ॥ মাথা ভরা জটা পহিরণে বহির্বাস । দেখিলে তাহার রূপ পূরে অভিলাষ । ঈশ্বরের অবতার দেখে বোধ তয় । ভক্তিরসে পূর্ণ সদা তাহার হৃদয় ॥ ভাবাবেশে সদা মত্ত নবীন সন্ন্যাসী । মাতাইয়া তুলিয়াছে দ্বারক নিবাসী ॥ কাম নাই ক্ৰোধ নাই নাহি অভিলাষ । দ্বারকাধীশের প্রতি অটুট বিশ্বাস ॥