পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬. গোবিন্দ দাসের ক্ষরচা একান্ত স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পিত হন। সেইরূপ ঐ সকল ধৰ্ম্ম-গ্রন্থে অনেক সময় চৈতন্তদেব অতিপ্রাকৃত ভাবে বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও যখন লেখকের পারিপাশ্বিক ঘটনা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, তখন তাহা যথাযথ ও স্বাভাবিক ভাবেই বর্ণিত হইয়াছে। সুতরাং সাময়িক ইতিহাস হিসাবেও যে একল পুস্তকের অনেকটা মূল্য না আছে, তাহা আমি বলিতে চাহিন । কিন্তু মহাপ্রভুর যে সকল চিত্র এসকল পুস্তকে পাই তাহার অনেকগুলিই অতি প্রাকৃত ও অতি-রঞ্জিত , সুতরাং সে সমস্তই ঐতিহাসিক বলিয়া গ্রহণ করা অসম্ভব। যাহারা অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাসী তাহাদের বিশ্বাসের উপর আমরা হানা দিতে চাই না, বরঞ্চ ভক্ত বলিয়া তাহাদিগকে আমরা শ্রদ্ধাও করিতে পারি। কিন্তু এ সকল অলৌকিক ব্যাপারে আস্থাস্থাপন ভাবরাজ্যের কথা । যদি কেহ সেগুলিকে ঐতিহাসিক বলিয়া প্রমাণ করিতে চান, তবে আমরা কখনই তাহাদের সহিত একমত হইতে পারিব না। আশ্চর্য্যের বিষয় এই গোড়ার দলের কেহ কেহ ঐ সকল ধৰ্ম্ম গ্রন্থের অমুস্বার বিসর্গ পর্য্যন্ত ঐতিহাসিক সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু করচার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় লইয়া ঘোর ঐতিহাসিক তর্কজাল বিস্তার করিতেছেন । ইহঁাদের মধ্যে শিক্ষিত ব্যক্তিরাও আছেন, তাহারা ঐ সকল গ্রন্থের যাহা কিছু আছে শুধু তাহাই অকাট্য সত্যরূপে দাড় করাইতে চাহেন না, সেই সকল অলৌকিক চিত্রের আদর্শ যাহাতে না পান, সেরূপ পুস্তকের ঐতিহাসিকত্ব স্বীকার করিতে কুষ্ঠিত হইয়া পড়েন। ইহা হইতে আশ্চর্য্যের বিষয় আর কি হইতে পারে যে যাহারা মুরারিগুপ্ত এক ব্রাহ্মণ-পরিবারের সন্মুখে লেজ বাহির করিয়া তাহার অঙ্গদত্ব প্রমাণ করিয়া ছিলেন “মুরারি গুপ্ত বন্দো অঙ্গদ বিক্রম। সপরিবারে লেজ যার দেখিল ব্রাহ্মণ ॥” এবং চৈতন্য দেব সুদর্শনচক্রকে আহবান করিয়া জাগাই মাধাইকে শাস্তি দিতে উদ্যত হইলে উক্ত চক্র ৰ্তাহার আদেশে আকাশে ভো ভো করিয়া ঘুরিতেছিল “চক্র চক্র চক্র প্রভূ ডাকে ঘনে ঘনে। আথে পাথে চক্র আসি উপসন্ন হৈল ॥” ( চৈ-ডা-মধ্য ১৬ শ্লোক ) । এই সকল কথা অবাধে বিশ্বাস করিতে পারেন, তাহারা চৈতন্তদেব মুখের দ্বারা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করিয়াছিলেন (নাসারন্ধ দিয়া নহে ) করচার এই কথা বিশ্বাস করিতে চান না, এবং অনুচরটা পেটের অমুখ হইলে তাহার গায়ে তিনি ঐ হস্ত বুলাইয়াছিলেন, এই কথা অসম্ভব মনে করিয়া থাকেন। তাহাদের বিশ্বাস ও অবিশ্বাস উভয়েরই সীমা পাওয়া যায় না। গোবিন্দদাসের করচার উপরে তাহারা যে প্রকার অনুসন্ধানের তীক্ষ রশ্মি পাত করিতেছেন, তাহাতে পৃথিবীর যে কোন প্রসিদ্ধ ইতিহাসের ভিত্তি কঁাপিয়া উঠিতে পারিত। প্রতিছত্ৰ লইয়া কতই না তর্ক উঠিতেছে। অথচ চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যচরিতামৃতে অলৌকিক ঘটনা ছাড়াও এরূপ সকল কথাও আছে যাহা কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্য নহে। সদ্যঃ কৈশোরাতিক্রান্ত চৈতন্যদেব রুদ্ররূপে নবতিবর্ষ বয়স্ক অদ্বৈতাচার্য্যের কি দুৰ্গতি করিতেছেম দেখুন “পিড়া হইতে অদ্বৈতেরে ধরিয়া আনিয়া। স্বহস্তে কিলায় প্রভু উঠানে পাড়িয়া ॥” (চৈ-ভা-মধ্য ১৩ শ্লোক ) । চৈতন্যপ্রভুর এই রুদ্র মুৰ্ত্তি দেখিয়া তাহাকে যাহার রুদ্রাবতার