পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


फूमिका ○ পুথিখানি নগেন্দ্রবাবুর প্রাচীন পুথিশালায় রক্ষিত ছিল । পুথিখানির পাঠ ছিল “গোবিন্দানন্দ আর” প্রবন্ধকার লিখিতেছেন “দীনেশ বাবুর ঐ পুথিশালায় অবাধ গতিবিধি ছিল" এবং তিনি “গোবিন্দানন্দ আর” পাঠ কাটিয়া “গোবিন্দ কৰ্ম্মকার” করিয়া দিয়াছেন, সুতরাং নগেন্দ্রবাবু গয়রহ সম্পাদিত চৈতন্যমঙ্গলে উক্ত ছত্রের পাঠ “গোবিন্দ কৰ্ম্মকার” রূপে প্রকাশিত হইয়াছে। এই “বিশিষ্ট বৈষ্ণবের” লেখা অমুসরণ করিয়া আরও কতকগুলি প্রবন্ধ ভিন্ন ভিন্ন লোক কর্তৃক প্রকাশিত হইয়াছে,—তাহাতেও আমাকে জালীয়াত প্রমাণিত করিবার চেষ্ট হইয়াছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তর প্রাচীন বাঙ্গালা পুথি সংগ্ৰহ করিয়াছেন, তন্মধ্যে দুইখানি চৈতন্যমঙ্গলে গোবিন্দ কৰ্ম্মকারের নাম রহিয়াছে। এ সম্বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষ্টগ্রাজুয়েটের আর্ট বিভাগের সম্পাদক ঐযুক্ত ডাঃ গৌরাঙ্গনাথ বন্যোপাধ্যায় এম,এ, পি.এইচ.ডি. মহাশয়ের চিঠিখানি নিম্নে প্রদত্ত হইল। এতৎ সহ সেই প্রাচীন পুথিদ্বয়ের পত্র কুটির ও প্রতিলিপি দেওয়া যাইতেছে। ডঃ গৌরাঙ্গের চিঠিখানি এইরূপ,—“আমি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীস্থ বঙ্গীয় প্রাচীন পুথি বিভাগের জয়াননাকৃত চৈতন্যমঙ্গলের (নং ৫৪৪ ও ৫৪৫ ) পুথি দুইখানি দেখিলাম। পুথি দুইখানি প্রায় আড়াই শত বৎসরের পুরাতন। ৫৪৪ নং পুথির ৬২ পৃষ্ঠায় এবং ৫৪৫ নং পুথির ৪২ পৃষ্ঠায় গোবিন্দ কৰ্ম্মফারের নাম উল্লিখিত দেখিলাম । ইতি শ্ৰীগৌরাঙ্গনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ২৩শে ফেব্রুয়ারী, ১৯২৫ ।” “বিশিষ্ঠ বৈষ্ণব” লিখিয়াছিলেন “নগেন্দ্রবাবু মাত্র একখানি পুথি ( যাহাতে র্তাহার কথায় "গোবিন্দানন্দ আর" পাঠ ছিল । দেখিয়া পুস্তকথানি সম্পাদন করেন, তাহাতে আমি “গোবিন্দ কৰ্ম্মকার” জাল করিয়া নগেন্দ্রবাবুকে প্রতারিত করিয়াছিলাম। প্রাচ্য বিদ্যামহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় এই অভিযোগের উত্তরে আমাকে নিম্নলিখিত চিঠিখানি লিখিয়া পাঠাইয়াছেন। - “সুহৃদবরেষু, গোবিন্দ দাসের করচার সম্বন্ধে দেখিতেছি আপনার বিরুদ্ধে অনেকগুলি প্রবন্ধ বাহির হইয়াছে। গত ৮ ফাঙ্কণের আনন্দবাজার পত্রিকায় “ঐতিহাসিক গবেষণা না ইন্দ্রজাল” প্রবন্ধে লেখক লিখিয়াছেন যে জয়ানন্দের প্রাচীন পুথিতে “নিত্যানন্দ প্ৰভু গোবিনানন্দ আর” এই পাঠ ছিল। পরে এই পুথি যখন বঙ্গীয় সাহিত্য, পরিষদ হইতে ছাপা হইল, তখন এই পাঠের ভিতরে অপূৰ্ব্ব স্বষ্টিরহস্ত ব্যক্ত হইয়া পড়িল। পাঠ হইয়া পড়িল “নিত্যানন্দ প্ৰভু গোবিন্দ কৰ্ম্মকার ** এই স্থষ্টি-রহস্তের মৰ্ম্ম উদ্‌ঘাটন করিবে কে ?”

  • লেখক দেখিতেছি প্রকাশিত জয়ানদের চৈতন্যমঙ্গল খানিও দেখেন নাই। তাহার পাঠ “নিত্যানন্দ প্ৰভু গোবিন্দ কৰ্ম্মকার” নহে পাঠ “মুকুন্দ দত্ত বৈদ্য আর গোবিনা কৰ্ম্মকার।"