পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छूमिका is পুরী হইতে রওনা হন । ২১ পূ: ) । “আশ্বিনের শেষদিনে বরদা নগরে। ফিরিয়া আসিয়া প্রভু হরিনাম করে ॥” ( ৭৬ পৃ: ) “মাঘী পূর্ণিমার দিনে" তিনি তামপণীতে স্বান করেন। ( ৪২ পৃঃ ) “পহিলা আশ্বিনে মোরা দ্বারকাতে যাই।” ( ৭৩ পৃ: ) এবং “মাঘের তৃতীয় দিনে মোর গোর রায় । সাঙ্গপাঙ্গ সহ মিলি পুরীতে পৌছায়।” ( ৮৪ পৃঃ ) এরূপ বর্ণনা দুটী একটি নহে, বছ। প্রত্যক্ষদশীর কথা বলিবার ভঙ্গী দেখিলে তাহাতে কাহারও ভুল হইবার সম্ভাবনা হয় না। যাহারা চৈতন্য চরিতামৃত, চৈতন্ত ভাগবত প্রভৃতি গ্রন্থ পড়িয়াছেন, তাহারা চৈতন্যদেবের বরাহরূপে গর্জন এবং ধরারূপী কলসীকে দস্তাগ্রে ধারণ, সিংহরূপে কাজীর বক্ষে নখাঘাত, দামোদর রূপে বহুলোকের ভক্ষ্য একাকী ভোজন, অনন্তশায়ী কৃষ্ণরূপে অপোগও শৈশবাস্তায় করাল কালসাপের পৃষ্ঠে শয়ন—প্রভৃতি নানারূপ অদ্ভূত লীলার পরিচয় পাইয়াছেন, একথা পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি। বৈষ্ণবদিগের ইহার সমস্তই মানিয়া লইতে হইবে। না মানিয়া লইলে কবিরাজ গোস্বামীর অভিশাপ আছে। "অলৌকিক লীলায় যার না হয় বিশ্বাস ইহলোক পরলোক হয় তার নাশ ॥” “বিশ্বাস করিয়া শুন তর্ক না করিহ চিত্তে ।” (চৈ চ মধ্য, সপ্তম পঃ ৭৮ শ্লোক এবং ৮ম পঃ ১৯২ শ্লোক ) চৈতন্ত ভাগবত শুধু পরলোকের ভয় দেখাইয়া ক্ষাস্তচ্ছন নাই, ইহলোকের শাস্তির ভারও কতকটা নিজের হস্তে নিয়াছেন। যে ব্যক্তি তৎবর্ণিত অলৌকিক লীলায় অবিশ্বাস করিবে, তাহার জন্ত তিনি এইরূপ ব্যবস্থা করিয়াছেন “তবে লাথি মারি তার মাথার উপরে।” এই সকল লাথি-গুতা পাইয়া এবং ইহলোক পরলোক নাশ করিয়া ও ঐতিহাসিককে একটু সাবধান হইয়া চলিতে হইবে বৈকি ? কিন্তু মহাপ্রভুর উৎকট ভৈরব লীলার পাশ্বে করচা-অঙ্কিত ছবিটিকে দাড় করুন। গোবিন্দদাস তাহাকে এই অতি-প্রাকৃতের মহিমা বিভূতিতে অদ্ভূত করিয়া চিত্রিত করেন নাই। কোথায়ও "ছিন্ন এক বহিবাস পাগলের বেশ।” (৬১ পৃঃ) কোথায় ও “ধূলা মাথ জটা বাধা অন্ত কথা নাই। পথে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি চলিছে নিমাই ॥” ( ৩৩ পৃ: ) এবং অন্যত্র “ক্ষেপ হরিবোলা বলে প্রভুরে সকলে । ক্ষেপাইতে কত লোক হরিবোল বলে ॥” ( ৩৯ পৃঃ) রসালকুণ্ডে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ “ভও জ্বরাচার” বলিয়া গালি দিতেছে, অথচ তিনি উত্তেজনার যথেষ্ট কারণ পাইয়াও পাপীদলনের জন্ত সুদৰ্শন চক্রকে আহবান করেন নাই। কোন স্থানে “ত্রিরাত্র চলিয়া গেল বৃক্ষের তলায়। অনাহারে উপবাসে কিছু নাহি খায়। বহিছে হৃদয়ে দর দর অশ্রধারা। শত ডাকে কথা নাই পাগলের পারা।” (২৯ খৃঃ) “অনাহারে শীর্ণ দেহ চলিতে না পারে। তবু প্রভু হরিনাম দেন ঘরে ঘরে । সে দেশের লোক সব করে কাই মাই। তথাপি বিলান নাম চৈতন্য গোসাই ॥ যেইজন প্রভুকে দেখয়ে একবার। চলিয়া যাওয়ার শক্তি না হয় তাহার ॥” ( ২৯ পূঃ ) এবং যখন তিনি কৃষ্ণনাম দিতেছেন, তখন “ছুটিল পথের গন্ধ বিমোহিত করি। অজ্ঞান হইয়া নাম করে গৌরহরি। প্রভূর মুখের পানে সবার নয়ন।