পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা 86 ৪ । প্রবাসী লেখকের ( ১৩৩২, শ্রাবণ ) একটি অদ্ভুত মত এই যে করচাখানি ইদানীন্তন কালে জাল হয় নাই, ইহ জাল হইয়াছিল ১৫১২ কি ১৫১৩ খৃষ্টাব্দে। তিনি বলেন যে খুব সম্ভব “প্রভুর প্রত্যাগমনের পর তাহার সঙ্গী কৃষ্ণদাসের ( অথবা যে কেহ তাহার সঙ্গী ছিলেন ) তাহার কাছে কোন ভক্ত দক্ষিণের তীর্থস্থানের নামগুলি লিখিয়৷ রাখিয়াছিলেন, কিংবা যখন পুরীতে আসিয়া প্রথম রাত্রে প্রভুর ভক্তেরা সেই সকল কথা শুনিয়া থাকিবেন, সেই সময় কেহ করচা করিয়া রাখিবেন ।” অনুমান ও কল্পনা দ্বারা উপন্যাস রচনা করা যায়, কিন্তু ইতিহাস লেখা যায় না । ৪ । প্রবাসীর লেখক জানাইতেছেন, গোবিন্দদাস মহাপ্রভুর সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৃদ্ধ ছিলেন। প্রমাণ স্বরূপ একটি ছত্র উদ্ধত হইল । গোবিন্দ লিখিয়াছেন “করচা করিয়া রাথি শক্তি অনুসারে।” তিনি লেখাপড়া জানিতেন না, এইজন্ম চৈতন্যপ্রভুর দক্ষিণের পণ্ডিতদের সঙ্গে বিচারের কথা ভাল করিয়া লিখিতে পারেন নাই। নিজের সামান্ত শক্তি অনুসারে যাহা পারিয়াছেন, তাহাই লিখিয়াছেন। ঐ ছত্রটির ত ইহাই সরল অর্থ, উহ। গোবিন্দের বাদ্ধক্যের প্রমাণ কিরূপে হইল, তাহা বুঝিতে পারিলাম না। ৫ । প্রবাসীতে লিখিত হইয়াছে দাক্ষিণাত্যের কোন কোন স্থানে তণ্ডুলষ্ট প্রধান থাদ্য, কিন্তু করচা লেখক কোথাও মহাপ্রভুর তণ্ডুল ভিক্ষা পাইলেন, একথা লিখেন নাই। প্রবন্ধ লেখক করচাখানি ভাল করিয়া পড়িয়াছেন বলিয়া মনে হয় না । চোরানন্দীবনে “কেহ কাষ্ঠ চিনি আনে কেহ বা ত ভুল। কেহ দুগ্ধ কেহ ঘুত কেহ ফলমূল ॥” । ৫৬ পৃ: ) প্রভূতি স্থানে তণ্ডুল ভিক্ষার উল্লেখ আছে। এই সকল তুচ্ছ অভিযোগ লইয়া ব্যস্ত হওয়ার সময় আমাদের নাই। তবে অপর যে সকল সকল ভ্রান্ত ধারণার জন্য প্রতিবাদীরা খুব আন্দোলন করিতেছেন, তৎসম্বন্ধে কিছু আলোচনা করিব । করচার ভাষা । প্রতিবাদীরা বলিতেছেন, গোবিনা দাসের করচার ভাষা আধুনিক। পূৰ্ব্বেই উক্ত হইয়াছে ইহারা চৈতন্য চরিতামৃতকেই ঐতিহাসিক প্রমাণ, ভাষাতত্ত্ব এবং ধৰ্ম্মশাস্ত্র প্রভূতি সমস্ত বিষয়ে আদর্শ ঠিক করিয়া রাখিয়াছেন এবং এই আদর্শের আলোকে তাহাদের ভাষার বিচার চলিয়াছে * । একথা তাহাদের জানা উচিত যে চৈতন্যচরিতামৃতের ভাষা আদৌ খাটি বাঙ্গলা নহে । কবিরাজ গোস্বামী ষোড়শবর্ষ বয়সে

  • য়ায় বাহাদুর রসময় মিত্র লিখিয়াছেন “চৈতন্যচরিতামৃতাদি গ্রন্থের সহিত তুলনায় উহার (করচার ) ভাষা প্রভৃতির তুলনা করিয়া উহা যে আধুনিক" তাঁহাই তিনি এবং উহার কতিপয় বন্ধু সাব্যস্থ করেন। আনন্দৰাজার পত্রিক, ৩রা ফাল্গুন ১৩৩১ ।