পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা 8% বঙ্গদেশের কোন এক প্রাস্তে ব্যবহৃত হইয়াছিল, তাহা পড়িয়া এখনকার কোন আনাড়ি লেখক মনে করিতে পারেন, উহ্য অশোকের সময়ের প্রাকৃত । কোন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ভাষী ৪ • •॥৫০০ শত বৎসরে বড় বেশী পরিবর্তন হয় না । যে সকল স্থানে বানিজ্যের কেন্দ্র, সেখানে বহু বিদেশী লোকের আনা গোনা হয়, তথায় নানা ভাষা মিশিয়া একটা জটিল ভাষার স্বষ্টি হইয় থাকে। কিন্তু বঙ্গের নিভূত পল্লীগুলিতে সহস্ৰ বৎসরেও ভাষার কোন দ্রুত কিম্বা আমূল পরিবর্তন লক্ষিত হয় না। যে সকল লেখক পণ্ডিত, তাহাদের লেখায় অলক্ষিত ভাবে পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী গ্রন্থাদির ভাষা আসিয়া পড়ে। এই জন্ত পণ্ডিত গ্ৰন্থকারদের ভাষায় মধ্যে মধ্যে শব্দগুলির প্রাচীন আকৃতি দৃষ্ট হইয়া থাকে । গোবিন্দ দাসের বই-পড়া বিদ্য সামান্তই ছিল । তিনি থাটি বাঙ্গালা কথা লিখিয়া গিয়াছেন এই জন্ত তাঙ্কার ভাষা অতি সরল হইয়াছে। চৈতন্যচরিতামৃতের হিন্দী-বহুল বাঙ্গল এবং ব্রজবুলীর মৈথিল-মিশ্রিত বাঙ্গলা দেখিয়া যাহার। ষোড়শ শতাব্দার ভাষার আদর্শ ঠিক করিয়া রাখিয়াছেন, তাহার পদে পদেই ভুল করিবেন। মুদ্রিত পুস্তকে অনেক সময় বানান ভিন্ন রূপ কবাতে BB BBB BB DDBS BBS BBS SBBBS BBBS BBSBBS BBB ‘প্যাঞ’ ভাবে লিখিত হয়, তবে যেন মনে হয় শেষোক্ত আকার প্রাচীনতর। কিন্তু মূলত: এই বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে উচ্চারণ গত বিশেষ তফাৎ নাই । সেইরূপ এক যদি ‘য়েক’ কিংবা লইয়া” যদি ‘লএা’ এই ভাবে লিখিত হয় তবে চোখে ধাধা লাগে, বাস্তবিক এই ভিন্ন ভিন্ন রূপের মধ্যে কথা বলিবার সময় বিশেষ কোন পার্থক্য লক্ষিত श्ध्न नीं । আমাদের পণ্ডিত মহাশয়ের যখন আগেকার দিনে প্রাচীন পুথি সম্পাদন করিতে লাগিয়া যাইতেন, তখন পুথির ঐরূপ ‘এ’ প্রভৃতির ব্যবহার পরিবর্তন করিয়া ফেলিতেন। র্তাহাদের লক্ষ্য থাকিত যাহাতে লোকে বই পড়িতে কষ্ট না পায় সেই দিকে, ভাষা-বিজ্ঞান লইয়া তাহার মাথা ঘামাইতেন না। কৃত্তিবাস প্রভৃতি করিব যে সকল প্রাচীন পুথি পাওয়া যায়, তাহাদের সঙ্গে বটতলার মুদ্রিত পুথি মিলাইঃ দেখিলে এইরূপ পরিবর্তনের চিহ্ন পত্রে পত্রে পাওয়া যাইবে। বর্ণবিদ্যাসের প্রাচীন রীতিগুলি রক্ষা করিলে ভাষা এক থাকা সত্ত্বেও পুস্তকখানি প্রাচীনতর মনে হইবে। কৃত্তিবাসাদি সম্বন্ধে প্রকাশকগণ যাহা করিয়াছেন, করচ, সম্বন্ধে ও জয়গোপাল গোস্বামী কতক পরিমানে সেই রীতিই অবলম্বন করিয়াছেন। তাহার উদ্দেশু ছিল না পুথিতে বেশী কোন পরিবর্তন করা। মাঝে মাঝে প্রাচীন শব্দ বদলাইয়া তিনি পুস্তক খানি সহজ-বোধ করিয়াছিলেন। চণ্ডীদাসের বর্তমান কালে যে সকল পদ পাওয়া যাইতেছে গায়কের তাহ কতকট। সহজ করিয়াছেন, কিন্তু তথাপি সেগুলি চণ্ডীদাসের নামেই পরিচিত হইতেছে। কৃত্তিবাস, বৃন্দাবন দাস প্রভৃতি লেখক সম্বন্ধে ও সেই একই কথা প্রযোজ্য।