পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


gbr গোবিন্দ দাসের করচা গোবিন্দকৰ্ম্মকারের অন্ততঃ ১২৫ বৎসর পূৰ্ব্বে যে সকল পদ চণ্ডীদাস রচনা করিয়াছিলেন তাহ আমরা এইরূপ ভাবে পাইতেছি – (১) “বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে। দেখা ন হইত মরণ হৈলে । দুঃখিনীর দিন ছখেতে গেল। তুমি ত মথুরায় ছিলে হে ভাল । আমি নিজ মুখ দুখ কিছু না জানি। তোমার কুশলে কুশল মানি ।” (২) “সই কেবা শুনাইল শুামনাম। কাণের ভিতর দিয়া, মরমে পশিল গো, আকুল করিল মোর প্রাণ ॥ না জানি কতেক মধু খাম-নামে আছেগো, বদন ছাড়িতে নাহি পারে। জপিতে জপিতে নাম, অবশ করিল গো, কেমনে পাইব সখী তারে ॥” (৩) “বধু কি আর বলিব আমি। জীবনে মরণে, জনমে জনমে, প্রাণনাথ হইও তুমি ৷ তোমার চরণে, আমার পরাণে, বান্ধিল প্রেমের ফঁাসি। সব সমপিয়া, এক মন হৈয়া, নিশ্চয় হইলাম দাসী ॥” (৪) “কে বলে পিরীতি ভাল। হাসিতে হাসিতে পিরীতি করিয়৷ কান্দিয়া জনম গেল ॥” 4 × চণ্ডীদাসের কিছু পরে—চৈতন্যপ্রভুর জন্মের পূৰ্ব্বে—শ্ৰীখণ্ডের কবি নরহরি এইরূপ পদ রচনা করিয়াছিলেন ;–“অঙ্গনে রহিল আমার হিয়ার হেম হার । পিয়া যেন গলায় পরয়ে একবার ॥ রোপিমু মল্লিকা নিজ করে। গাথিয়া ফুলের মালা পরাইও তারে ॥” গোবিন্দ দাসের প্রায় সমসাময়িক বৃন্দাবন দাস তৎকৃত চৈতন্যভাগবতে এইরূপ ভাষা ব্যবহার করিয়াছেন —“নাচে বিশ্বম্ভর, সবার ঈশ্বর, ভাগিরথী তীরে তীরে। যার পদধূলী, হয়ে কুতূহলী, সবাই ধরিল শিরে। অপূৰ্ব্ব বিকার, নয়নে সুধার, হুঙ্কার গর্জন শুনি। হাসিয়া হাসিয়া, ঐ ভূজ তুলিয়া, বলে হরি হরি বাণী।” কৃত্তিবাসী রামায়ণ গোবিন্দ দাসের করচার অন্তত: ৬০৭০ বৎসরের পূর্ববর্তী। বটতলার ছাপা রামায়ণে তাহার ভাষা কিরূপ আকার ধারণ করিয়াছে তাহা সকলেই অবগত আছেন। তথাপি কয়েকটি নমুনা দিতেছি – (১) “মাঝে সীতা আগে পাছে দুই মহাবীর । দুই ক্রোশ পথ বাহি যান গঙ্গা তীর ॥ শ্রীরাম বলেন ভরদ্বাজের নিকটে । আজি লাসা করিয়া থাকিবা নিঃশঙ্কটে। মুনিগণের বেষ্টিত বসিয়া ভরদ্বাজ । তারাগণ মধ্যে যেন শোভে ৰিজরাজ। হেন কালে সেখানে গেলেন তিন জন। তিন জনে বন্দিলেন মুনির চরণ ॥ স্ত্রীরাম বলেন শুন মুনি মহাশয় । তিন জন তব ঠাঞি করি পবিচয় ॥ ঐ দশরথের পুত্র মোরা দুই জন। শ্রীরাম আমার নাম কনিষ্ঠ লক্ষ্মণ ॥* - (২) “বন্ধুবান্ধবাদি কোথা কেবা আছে আর । মনে মনে চিস্ত করে দেখি একবার। স্বর্গে ছিল বীরবাহ মরিল আসিয়া । কারে পাঠাইব যুক্তি না পাই ভাবিয়া ॥ ইন্দ্রজিৎ নাহি রণে যাবে কোন জন । অশ্রধারা বহিতেছে বিংশতি লোচন ॥ অভিমানে