পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


☾ গোবিন্দ দাসের করচা পরস্তু তাহার অনুবর্তীদের মধ্যে কেহ স্ত্রীলোকের সঙ্গে কথা বলিলে তাহাকে দূর করিয়া দিতেন। ছোট হরিদাস ছিলেন, সুকণ্ঠ এবং মুত্র যুবা পুরুষ। র্তাহার কোন ছৰ্বলতা বুঝিতে পারিয়া তিনি যাহা করিয়াছিলেন, নির্বিচারে সর্বত্র সেই নিয়ম চালাইতেন না । রামানন্দ রায় তো পুরীর দেবদাসীদের সঙ্গে খুব মিশিতেন। এইজন্ত র্তাহাকে বামুদেবসৰ্ব্বভৌম প্রভৃতি অনেকে সহজিয়া বৈষ্ণব' বলিয়া ঠাট্ট বিদ্রুপ করিতেন । “মহারাজ সঃ থলু সহজ বৈষ্ণবো ভবতি পূৰ্ব্বময়মস্মাকমুপহাসপাত্রমাপীং” ( মহারাজ, রামানন্দকে সহজিয়া বৈষ্ণব বলিয়া আমরা ইহাকে কত উপহাস করিয়াছি’-বামুদেবোক্তি শ্রীচৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটক সপ্তমাঙ্ক——৫ ) এই রামানন্দ রায়কে চৈতন্ত কিরূপ ভালবাসিতেন, তাহ সকলেই জানেন। নিত্যানন্দ সম্বন্ধে তিনি বলিয়াছিলেন, যে “কেহ যদি এরূপ প্রমাণ করে যে নিত্যানন্দ মদিরা পান করেন এবং যবনীর প্রতি আসক্ত, তথাপি আমার তাহার প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকিবে।” সুতরাং কেহ স্ত্রীলোকের সঙ্গে কথা বলিলে কি স্ত্রীলোক স্পর্শ করিলে তিনি র্তাহার প্রতি বিরূপ হইতেন, একথা বলা ঠিক নহে। হাতী ও চড়ুই পাখী তিনি এক ওজনে মাপ করিতেন না। যে যে দরের লোক তাহাকে সেই ভাবে বিচার করিতেন । তিনি সন্ন্যাসের পর স্ত্রীলোক স্পর্শ করিতেন না, কিংবা স্ত্রীলোকের সঙ্গে কথা বলিতেন না—এ কথাও ঠিক নহে। চৈতন্য চরিতামৃতেই আছে "ষাটার মাতা নাম ভট্টাচার্য্যের গৃহিণী। প্রভুভক্ত তেহ স্নেহেতে জননী ॥” (চৈ, চ, মধ্য, ১৫৭৪ ) অমোঘের সঙ্গে ঝগড়া করিয়া ষাটার মাত ও সাৰ্ব্বভৌম বিমৰ্ষ হইলে “ হার দুঃখ দেখি দুহা প্ৰবোধিয়া । দ্র হার ইচ্ছাতে ভোজন কৈলা তুষ্ট হৈয়া ॥” ( মধ্য, ১৫ পঃ ৩৩ শ্লোক ) । ষাটার মাতার সঙ্গে কথা না বলিলে চৈতন্ত র্তাহাকে প্রবোধ দিবেন কি প্রকারে ? হরিচরণের অদ্বৈতমঙ্গলে আছে, সন্ন্যাস গ্রহণের পরে চৈতন্য অদ্বৈতগুহে যাইয় অদ্বৈত-গৃহিণী সীতাদেবীর সঙ্গে খাদ্য দ্রব্য সম্বন্ধে নানা কথাবাৰ্ত্ত বলিয়াছিলেন –“মহাপ্রভু কহে সীতা আজি হইবে সামাল ।” “সীতা কহে যত চাহ তত অন্ন হয়। তোমার কৃপায় অভাব কিছু না রয়” (অদ্বৈতমঙ্গল, ১০ম সংখ্যা ) । চৈতন্ত চরিতামৃতেই আছে —“পুরীর মন্দিরে নানা বাদ্য বাজে, নাচে দেব দাসীগণ ।” দেবদাসীরা মহালক্ষ্মীর পালা অভিনয় করিতেছিল, “মহালক্ষ্মী দাসীগণের প্রাগলভ দেখিয়া । হাসিতে লাগিলা প্ৰভু নিজগণ লৈয়া।” ( চৈ, চ, মধ্য ১৪৫১) এই দেবদাসীগণের অভিনয় উপভোগ করার কথা কবিকর্ণপুর চৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটকেও লিখিয়াছেন। নীলাচলে জগন্নাথ দর্শনের আগ্রহাতিশয়ে একটি স্ত্রীলোক Gিড় ঠেলিয়া মহাপ্রভুর কাধে চড়িয়াছিল, তহোর অনুচর সেই স্ত্রীলোককে নামাইয়া দিতে চাহিলে মহাপ্ৰভু নিষেধ করিয়া বলিলেন—“স্বচ্ছনে দেখুক জগন্নাথে।” চৈতষ্ঠ চরিতামৃতে আরও লিখিত আছে যে কোন সেবাদাসীর মুখে জয়দেবের গান শুনিয়া চৈতন্যদেব অজ্ঞানাবস্থায় তাহাকে আলিঙ্গন করিতে ছুটিয়াছিলেন। যদি গোবিদের