পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


48 গোবিন্দ দাসের করচা কৃষ্ণের সমীপে তথা কাম ভষ্ম হয় ৷" ( ১০ পৃ: ) ব্যভিচারীদের নিন্দ করিয়া তিনি বলিয়াছেন “মুখে বল মাতৃবং পরের রমণি । নির্জনে পাইলে কামে মুগুধ অমনি ॥” ( ১• পৃ: ) যাহারা বিষয়ভোগী এবং পর রমণীর প্রতি আসক্ত তাহদের সম্বন্ধে বলিয়াছেন “পরের বিষয়ে পর রমণীতে মন। কেমনে করিবে তবে কৃষ্ণের সাধন ॥” ( ১৮ পূঃ) পুনশ “রমণীর প্রেম হয় গরল সমান। অমৃত বলিয়া তাহ মুখ করে পান।” (৩৪ পৃ: ) করচায় সৰ্ব্বত্রই সহজ মতের এইরূপ প্রতিবাদ আছে, অথচ প্রতিবাদীরা পুস্তকখানির বিরুদ্ধে লোক ক্ষ্যাপাইবার উদ্দেশে অযথ। কুৎসা করিয়া বেড়াইতেছেন। করচার একটি স্থানে আছে “অন্তরঙ্গ আছে আর দুই একজন। যাহাদের সঙ্গে হয় গোপনে ভজন ॥” (৪পৃঃ) এই “গোপন ভজন” কথাটুক নিগড়াইয়া আপত্তিকারকগণ ইহা হইতে সহজিয়া গন্ধ বাহির করিয়াছেন, কিন্তু তাহাদের ‘প্রামাণিক গ্রন্থের কথাগুলি ত প্রায় এইরূপ ভাবেই আছে। “অন্তরঙ্গ সঙ্গে করে রস অস্বিাদন। বহিরঙ্গ সঙ্গে করে নাম সঙ্কীৰ্ত্তন।” এই “গোপন ভোজন” এবং “রস-আস্বাদন”—এই দুই কথার মানে কি এক নহে ? চৈতন্য চরিতামৃতের অস্ত্যখণ্ডে স্বরূপ দামোদরের সঙ্গে চৈতন্যদেবের নিগুঢ় রাধাকৃষ্ণ লীলারস আস্বাদনের কথা বিস্তৃতভাবে বর্ণিত আছে, সেই রস আস্বাদনের সময় বাহিরের লোক তথায় ঘাইতে পারিত না ; রামরায় সেই গুঢ় রসলীলা বলিতে গেলে মহাপ্ৰভু তাহার মুখ চাপিয়া ধরিয়াছিলেন। এই “গোপন ভজনের” নিগৃঢ় কথা করচাতেই আছে, “যুবকের আৰ্বি যথা যুবতী দেখিয়া। সেইরূপ আৰ্ত্তি আর না পাই ভাবিয়া। এ কারণে ভক্তগণ ভজে যদুপতি। পত্নীভাবে তার প্রতি স্থির করি মতি ॥” (১০পৃঃ) “সুন্দর নায়ক দেখি সুন্দরী নায়িকা। যেই ভাবে দেখে তারে হৈয়া রাগাত্মিক ৷ সেই ভাবে কৃষ্ণকে ডাকহে বার বার। আপনি ঘুচিয়া যাবে মনের আন্ধার ॥” ( ৬০ পৃ: ) রূপের নিকট “পরবাসনিনী নারী "ব্যগ্রপি গৃহকৰ্ম্মস্থ” ইত্যাদি বাশিষ্ঠ রামায়ণোক্ত শ্লোকে মহাপ্ৰভু সেই নিগুঢ় রসের আস্বাদ বর্ণনা করিয়াছিলেন ॥ সুতরাং এই যে সহজিয়া’ অভিযোগ ইত্য ও প্রতিবাদিগণের হৃদয়ের অকপট কথা নহে। ইত করচাকে হতাঢ়ত করিবার উদ্দেশ্বে স্বেচ্ছাকৃত অর্থবিকৃতি । কৃষ্ণদাস চৈতন্যদেবের সঙ্গে দাক্ষিণাত্যে গিয়াছিলেন কিনা ? চৈতন্য চরিতামৃতে লিপিত আছে কৃষ্ণদাস নামক এক ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর সঙ্গে দাক্ষিণাতে গয়াছিলেন। সেখানে গোবিন্দ কৰ্ম্মকারের কোন উল্লেপ নাই,—সুতরাং যাহার সন্দবিষয়ে চরিতামৃতের অনুস্বার বিসর্গটি পর্য্যস্ত বিজ্ঞাননক্ষত ঐতিহাসিক প্রমাণ বলিয়। গণ্য করেন, তাহারা ঐ গ্রন্থে গোবিন্দ দাসের অনুল্লেপ তদ্বিরদ্ধে একটি প্রধান প্রমাণ বলিয়৷ গ্রহণ করিতেছেন।