পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা Գծ সম্বন্ধে আর অধিক কি বলা যাইতে পারে?” ( ঐশ্ৰীবিষ্ণুপ্রিয়া গৌরাঙ্গ পত্রিকা, তৃতীয় বর্য, ৫ম সংখ্যা, ১৬০ পৃ: )। এই প্রমাণটি আমরা উল্লেখ করিতাম না। ইতিহাস এই সকল প্রমাণের জন্য স্থান রাখেন নাই। কিন্তু ইহা দ্বারা জানা যাইতেছে যে গোড়। বৈষ্ণবের মধ্যেও করচাকে বিশেষরূপ শ্রদ্ধা করেন, এমন কি এই পুস্তক লইয়া ধ্যান-ধারণা করেন, এরূপ লোকেরই অভাব নাই। পণ্ডিত রসিক মোহন বিদ্যাভূষণের ছন্দানুবৰ্ত্তী যোগেন্দ্র মোহন ঘোষের এই চেষ্টা খুব বড় রকমের হইলেও তাহা অতি অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে আবদ্ধ। এ যুগে দস্তখত সংগ্রহ করা ব্যাপারটা এমন সুলভ হইয়াছে যে তাহার বিশেষ মূল্য নাই। বিশেষ যাহারা বঙ্গভাষার কোন তত্ত্বই জানেন না, বাস্তব অপেক্ষা অলৌকিক লীলাই যাহার বেশী বিশ্বাস করেন, যাহারা ইতিহাসের কোন খোজই রাখেন ন—তাহদের বড় তিলক ও ভাগবতী বিদ্যার নিদর্শন আমাদের কাছে অকিঞ্চিৎকর । বৰ্ত্তমান সময়ের প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিকগণ এই করচার প্রামা শকতা স্বীকার করিয়াছেন, তন্মধ্যে দুইজনের নাম করিব—ঐযুক্ত রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায় এবং মনোমোহন চক্ৰবৰ্ত্তী। * বিরুদ্ধ বাদীদের মধ্যে কেহ কেহ পণ্ডিত হইতে পারেন, কিন্তু কেহই ইতিহাসের ধার ধারেন না। প্রবাসী আপত্তি-কারক আর একটা যুক্তির অবতারণা করিয়াছেন যে সে সময়ে কৰ্ম্মকারের একবারে নিরক্ষর ছিলেন । বহু পূৰ্ব্বে বৌদ্ধ যুগের থেরীদের মধ্যে আমরা কৰ্ম্মকারজাতীয় বিদূষী রমণীর নাম পাইয়াছি। কিন্তু গোবিন্দ দাসের কিছু পরে লিখিত খাস কাঞ্চন নগরে প্রাপ্ত এক খানি কবিকঙ্কণ চণ্ডী আমরা পাইয়াছি, তাহার শেষ পত্রে লিখিত আছে যে তথাকার রামজীবন কৰ্ম্মকার নামক জনৈক ব্যক্তি চণ্ডী প্রভৃতি কাব্যের পাঠক-বৃত্তি করিয়া প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন। এই পুথি খানি আপাততঃ আমার নিকট আছে । ইহা ৯ নম্বর চিস্তামণি দাসের লেনস্থ ঐযুক্ত হরষিত কেশরী রায় মহাশয় আমাকে cमथिटङ लिम्नोक्साझन । করচার শেষ দুই ছত্র “প্রভূর বিরহ বাণ সহিব কেমনে। নিদারুণ কষ্ট আসি উপজিল মনে ॥” শাস্তিপুরে অদ্বৈতের নিকট চৈতন্তদেবের পত্ৰ লইয়া যাইবার প্রাকালে গোবিন্দের মনের ভাব ঐরূপ লিখিত হইয়াছে। এইখানেই বইয়ের শেষ কিংবা ইহার পরে আরও কিছু ছিল, তাহা জানা যায় না।

  • মনোমোহন বাবুর করচাখানিকে প্রামাণ্যগ্রন্থ বলিয়া স্বীকার করাতে একান্ত ক্ষুব্ধ হইয় "জনৈক বিশিষ্ট বৈষ্ণব" ১৩৩১ সনের ৮ই কাৰ্ত্তিক শুক্রবার তারিপের আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখিয়াছেন, “এমন কি প্রত্নতত্ত্ববিদ মহাপণ্ডিত খ্ৰীযুক্ত মনোমোহন চক্ৰবৰ্ত্তা মহাশয়ও উহাকেই ( করচাকে ) প্রামাণিক গ্রন্থ মনে করিয়া

লইলেন।" হায় !