পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা 9°ව যে র্তাহাকে ভগবানের দাস ভিন্ন অন্য কিছু বলিয়া প্রশ্রয় পায় (চৈ, ভা, অস্ত্য ১০ ) সেই কথাই সত্য বলিয়া মনে হয়। তিনি মাধিবসম্প্রদায়ের দীক্ষা গ্রহণ করিলেও স্বমতের স্বাতন্দ্র্য রক্ষা করিয়াছিলেন। তিনি কোথায়ও গুরুর প্রতি অখণ্ড বিশ্বাস প্রচার করেন নাই। বরঞ্চ রাম রায় যদি তাহার জনৈক ভক্তাগ্রগণ্য হইয়া থাকেন, এবং তাহার মতকে যদি চৈতন্য দেবের মত বলিয়া স্বীকার করা যায়, তবে মনে হয় তিনি গুরুবাদ মানিতেন না। রাম রায়ের প্রসিদ্ধ গানটিতে আছে— “না খোজলু দৃতি না থোজলু আন । দুই কার মিলনে মধত পাঁচ বান” এই পদের অর্থ কি ? ইহা কি স্পষ্ট ইঙ্গিত দ্বারা বুঝাইতেছে না যে ভক্ত ও ভগবান— ইহাদের মধ্যে গুরু বা তৃতীয় ব্যক্তি নাই। করচায় এই কথা আরও স্পষ্ট হইয়াছে। “ঈশ্বরে বিশ্বাস আনিয়া মিলায় ।” এতদ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে যে ভগবান লোক-চিত্ত স্বয়ং আকর্ষন করেন, প্রতিনিধি স্বারা করান না । তিনি নিজে কাহাকে ও শিষ্য করেন নাই । কিন্তু পরবর্তী কালে তাহাকে রাধাকৃষ্ণের যুগল মূৰ্ত্তির অবতার মনে করিয়া পাশ্বদগণের দ্বারা যে অবতার-ব্যুহের রচনা করা হইয়াছে, তাহা কি ঠিক ? তাহা কি তাহার অনুমোদিত ? প্রত্যেক পাশ্বদ এমন কি পরবর্তী ভক্ত ও ব্ৰজগোপীর ও কোন কোন দেবতার অবতার বলিয়া গণ্য হইয়াছেন। ইহারাই বুন্দাবন-লীলার মালিক। ইহাদিগকে ডিঙ্গাইয়া কৃষ্ণ-প্রেম বুঝিবার কাহারও অধিকার নাই। এই অবতারগণ সম্বন্ধে “গেীরগণোদেশ” প্রভৃতি বহু সংস্কৃত ও বাঙ্গলা পুস্তক লিখিত হইয়াছে। যে প্রেম-ধৰ্ম্মের উপর বিশ্বের সকলের অধিকার, তাহার ভাড়ারের চাবী হাতে রাখিয়াছেন এই গোপীর অবতারের ও তাহদের বংশধরেরা । এ যুগে—চৈতন্ত-লীলা নূতন করিয়া বুঝিতে হইবে। মোল্লা ও পৌরহিত্যের আধিপত্যের যুগাবসান হইয়াছে। যত অলৌকিক লীলার কল্পনা —যত আবর্জনা দূর করিয়া চৈতন্যপ্রভুর প্রতিপাদ্য ধৰ্ম্মকে নিৰ্ম্মল করিয়া বুঝাইতে হইবে। অলৌকিক লীলা সত্য হইলেই বা কি ? মহাপ্রভু অসীম দৈন্ত ও অজস্র অশ্রু দ্বারা যে অপূৰ্ব্ব অদর্শ দেখাইয়াছেন, তাহার কাছে এই সকল অলৌকিক লীলার কোন মূল্য নাই—উহা বাজে লোক ভুলাইবার উপায়—শিক্ষিত সম্প্রদায় তাহা গ্রাহ করিবেন না। সুতরাং র্যাহারা বৈষ্ণব ধৰ্ম্মকে কতকগুলি শ্লোকের পাহারা দিয়া চোখে চোখে রাখিয়াছেন, তাহদের সেই খবরদারীর কোন প্রয়োজন নাই। চৈতন্তের ধৰ্ম্ম তাহাদের কল্পিত স্বত্র অপেক্ষ অনেক বড়। আমরা তিলক ও অঙ্গরাগে ভুলিব না, নামের পূৰ্ব্বে কতকগুলি শ্ৰী ও ‘শ্ৰীল’র ছড়াছড়িতে ভয় পাইব না। র্তাহারা যদি আবর্জন দূর করিতে চেষ্টা করেন, আমরা ও অন্যদিক দিয়া আবর্জন দুর করিয়া সত্যকে উজ্জল করিতে চেষ্টা পাইব । এখন বৃথা পাণ্ডিত্য হইতে সরল মৰ্ম্ম কথা—আজগুবী গল্প ও অন্ধ সংস্কার হইতে বাস্তব ঘটনা,—পুরাণোক্ত দেবলীলা হইতে সৰ্ব্বজন গ্রাহ নরলীলা বেশী শ্রদ্ধা আকর্ষণ