পাতা:গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


খেলিবার সভা বসিবে।

 মহিম ঘরে ঢুকিতেই গােরা চৌকি ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। মহিম হুঁকায় টান দিতে দিতে কহিল, “ভারত-উদ্ধারে ব্যস্ত আছি, আপাতত ভাইকে উদ্ধার করে তাে।”

 গােরা মহিমের মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। মহিম কহিলেন, “আমাদের আপিসের নতুন যে বড়ােসাহেব হয়েছে তার ডালকুত্তার মতাে চেহারা—সে বেটা ভারি পাজি। সে বাবুদের বলে বেবুন; কারও মা মরে গেলে ছুটি দিতে চায় না, বলে ‘মিথ্যে কথা’; কোনাে মাসেই কোনো বাঙালি আমলার গােটা মাইনে পাবার জো নেই, জরিমানায় জরিমানায় একেবারে শতছিদ্র করে ফেলে। কাগজে তার নামে একটা চিঠি বেরিয়েছিল; সে বেটা ঠাউরেছে আমারই কর্ম। নেহাত মিথ্যে ঠাওরায় নি। কাজেই এখন আবার স্বনামে তার একটা কড়া প্রতিবাদ না লিখলে টিকতে দেবে না। তােমরা তাে য়ুনিভর্‌সিটির জলধি মন্থন করে দুই রত্ন উঠেছ; এই চিঠিখানা একটু ভালাে করে লিখে দিতে হবে। এর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে even-handed justice, never-failing generosity, kind courteousness ইত্যাদি ইত্যাদি।”

 গােরা চুপ করিয়া রহিল। বিনয় হাসিয়া কহিল, “দাদা, অতগুলো মিথ্যা কথা এক নিশ্বাসে চালাবেন ?”

মহিম। শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ। অনেক দিন ওদের সংসর্গ করেছি, আমার কাছে কিছুই অবিদিত নেই। ওরা যা মিথ্যা কথা জমাতে পারে সে তারিফ করতে হয়। দরকার হলে ওদের কিছু বাধে না। একজন যদি মিছে বলে তাে শেয়ালের মতাে আর সবকটাই সেই এক সুরে হুক্কাহুয়া করে ওঠে; আমাদের মতাে একজন আর-একজনকে ধরিয়ে দিয়ে বাহবা নিতে চায় না। এটা নিশ্চয় জেনাে ওদের ঠকালে পাপ নেই, যদি না পড়ি ধরা।

 বলিয়া হাঃ হাঃ হাঃ করিয়া মহিম টানিয়া টানিয়া হাসিতে লাগিলেন;

৩৪