পাতা:গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


পাইবে কেমন করিয়া!

 হরিমােহিনী কহিলেন, “রাধারানী কি চিরদিন এমনি আইবুড়াে থেকেই যাবে! এও কি কখনাে হয়!”

 সেও তাে বটে। কাল যে গােরা প্রায়শ্চিত্ত করিতে যাইতেছে। তাহার পরে সে যে সম্পূর্ণ শুচি হইয়া ব্রাহ্মণ হইবে। তবে সুচরিতা কি চিরদিন অবিবাহিতই থাকিবে! তাহার উপরে চিরজীবনব্যাপী এই ভার চাপাইবার অধিকার কাহার আছে! স্ত্রীলােকের পক্ষে এতবড়াে ভার আর কী হইতে পারে।

 হরিমােহিনী কত কী বকিয়া যাইতে লাগিলেন। গােরার কানে তাহা পৌঁছিল না। গােরা ভাবিতে লাগিল, ‘বাবা যে এত করিয়া আমাকে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করিতে নিষেধ করিতেছেন, তাঁহার সে নিষেধের কি কোনাে মূল্য নাই? আমি আমার যে জীবন কল্পনা করিতেছি সে হয়তাে আমার কল্পনামাত্র, সে আমার স্বাভাবিক নয়। সেই কৃত্রিম বােঝা বহন করিতে গিয়া আমি পঙ্গু হইয়া যাইব। সেই বােঝার নিরন্তর ভারে আমি জীবনের কোনাে কাজ সহজে সম্পন্ন করিতে পারিব না। এই-যে দেখিতেছি, আকাঙ্ক্ষা হৃদয় জুড়িয়া রহিয়াছে। এ পাথর নড়াইয়া রাখিব কোনখানে। বাবা কেমন করিয়া জানিয়াছেন, অন্তরের মধ্যে আমি ব্রাহ্মণ নই, আমি তপস্বী নই, সেইজন্যই তিনি এমন জোর করিয়া আমাকে নিষেধ করিয়াছেন।’

 গােরা মনে করিল, ‘যাই তাঁর কাছে। আজ এখনই এই সন্ধ্যাবেলাতেই আমি তাঁহাকে জোর করিয়া জিজ্ঞাসা করিব তিনি আমার মধ্যে কী দেখিতে পাইয়াছেন। প্রায়শ্চিত্তের পথও আমার কাছে রুদ্ধ, এমন কথা তিনি কেন বলিলেন। যদি আমাকে বুঝাইয়া দিতে পারেন তবে সে দিক হইতে ছুটি পাইব। ছুটি।’

 হরিমােহিনীকে গােরা কহিল, “আপনি একটুখানি অপেক্ষা করুন, আমি এখনই আসছি।”

 তাড়াতাড়ি গােরা তাহার পিতার মহলের দিকে গেল। তাহার মনে

৫৭৩