পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
রামাবতী।

গিয়াছেন। তাহা বরেন্দ্রভূমির শোভাবর্দ্ধন করিয়াছিল। যে ভূমি “অপুনর্ভবা” নামক মহাতীর্থে সুপবিত্র এবং “জাগদ্বল-মহাবিহারে” সুশোভিত,—সেই বরেন্দ্র-ভূমিতেই “রামাবতী” নির্ম্মিত হইয়াছিল। পণ্ডিতবর শাস্ত্রী মহাশয়, তৎপ্রতি লক্ষ্য না করিয়া, তাহাকে পূর্ব্ববঙ্গের “রামপাল” বলিয়া [রামচরিত কাব্যের ভূমিকায়] পার্শ্ব-টীকায় ইঙ্গিত করিয়াছেন। অনুসন্ধান-সমিতি রামাবতীর, জগদ্বল-মহাবিহারের এবং অপুনর্ভবা তীর্থের অনুসন্ধান করিয়া, নানা ধ্বংসাবশেষ দর্শন করিয়া আসিয়াছেন। রামাবতীর নাম এখন বাঙ্গালীর নিকট সম্পূর্ণ অপরিচিত হইলেও, অনেক দিন পর্য্যন্ত সুপরিচিত ছিল। “সেখ শুভোদয়া” নামক [মালদহের অন্তর্গত পাণ্ডুয়ার মস্‌জেদে প্রাপ্ত] হস্ত-লিখিত সংস্কৃত গ্রন্থে “রামাবতীর” প্রথম উল্লেখ দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল। সে অনেক দিনের কথা। তখন তাহার সহিত বাঙ্গালীর ইতিহাসের সম্পর্ক-বিচারে প্রবৃত্ত হইবার প্রবৃত্তি উপস্থিত হয় নাই। কিন্তু বরেন্দ্রমণ্ডলের অন্তর্গত দিনাজপুর জেলার মনহলি গ্রামে আবিষ্কৃত পালরাজবংশের সপ্তদশ নরপাল মদনপালদেবের তাম্রশাসনে “রামাবতী-পরিসরে” জয়স্কন্ধাবার প্রতিষ্ঠিত থাকিবার উল্লেখ দেখিয়া, প্রাচ্যবিদ্যা-মহার্ণব শ্রীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় [বরেন্দ্রমণ্ডলে পদার্পণ না করিয়াও] তাহাকে দিনাজপুরের অন্তর্গত একটি স্থানের সহিত মিলাইয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। সে চেষ্টা সফল হয় নাই। কিন্তু তাহা প্রথম চেষ্টা বলিয়া, উল্লিখিত হইবার যোগ্য।

 রামপাল প্রজা-বিদ্রোহের প্রকোপে জন্মভূমি হইতে তাড়িত হইবার পর, নানা ক্লেশে জন্মভূমির উদ্ধার সাধন করিয়া, যেরূপ অধ্যবসায়ের এবং কষ্ট-সহিষ্ণুতার পরিচয় প্রদান করিয়াছিলেন, তাহা স্মরণ করিয়া, রাজকবি তাঁহাকে দ্বিতীয় রামচন্দ্র বলিয়া অভিহিত করিয়া গিয়াছেন। যাঁহার বাহুবলে এবং মন্ত্রণা-কৌশলে রামপাল বিজয়লাভ করিয়াছিলেন, তিনি রামপালের মাতুল এবং চির-সুহৃৎ অঙ্গাধিপতি মহনদেব। “সেখ শুভোদয়া” গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল,—

“शाके युग्मवेणुरन्ध्रगते(?) कन्यां गते भास्करे
कृष्णे वाक्‌पति-वासरे यमतिथौ यामद्वये वासरे।
जाह्नव्यां जलमध्यत स्त्वनशनै र्ध्यात्वा पदं चक्रिणो
हा पालान्वय-मौलि-मण्डनमणि: श्रीरामपालो मृतः॥”

রামপাল ভাগীরথী-গর্ভে অনশনে তনুত্যাগ করিয়াছিলেন। এরূপ আত্ম-বিসর্জ্জনের কারণ কি, “সেখ শুভোদয়া”-গ্রন্থে তাহার পরিচয়-লাভের উপায় ছিল না। রামচরিত কাব্যে সে পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে;—মহনদেবের মৃত্যু-সংবাদ শ্রবণ করিয়াই, শোকার্ত্ত রামপালদেব আত্ম-বিসর্জ্জন করিয়াছিলেন। তাহার পর, কুমারপাল সিংহাসনে আরোহণ করিলে, [বরেন্দ্রমণ্ডলে আরও কিয়ৎকাল পাল-রাজবংশের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকিলেও] “অনুত্তর-বঙ্গে” এবং কামরূপে বিদ্রোহ-বিকার প্রবল হইয়া উঠিয়াছিল। কুমারপালের প্রধান মন্ত্রী বৈদ্যদেবের বাহুবলে

॥৴৹