বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গ্রহ-নক্ষত্র.pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
আমাদের পৃথিবী

তথন তাহাদের মধ্যে হঠাৎ দেখা-শুনা হয় নাই। প্রথমে তাহার শুঁয়ো দেখা গিয়াছিল, তার পরে আরো অগ্রসর হইলে তাহার পা-গুলি-পর্য্যন্ত ক্রমে ক্রমে দেখা গিয়াছিল। সাঁকোর উপর দিয়া গাড়ী আসার উদাহরণেও আমরা ঐ রকমটাই দেখিয়াছিলাম। গাড়ীর সকল অংশ একেবারে দেখা যায় নাই; প্রথমে গাড়োয়ান, তার পরে গাড়ীর ছাদ, তার পরে গরুর মাথা এবং শেষে গাড়ীর সকল অংশ দেখা গিয়াছিল। খোলা সমুদ্রের উপর দিয়া জাহাজের যাওয়া-আসাতেও ঐ প্রকার দেখা গেল। কাজেই স্বীকার করিতে হইতেছে, আমাদের পৃথিবীটা ফুট্‌বলের মত ঢালু।

 দু’চার মাইল জমিতে এই ঢাল বুঝা যায় না।; সমুদ্রের মাঝে জাহাজের উপরে দাঁড়াইয়া যখন অনেক দূরের জাহাজকে আসিতে দেখা যায়, তথনি উহা জানা যায়।

 ফুট্‌বলের বেড় মাপিলে তাহা দেড় ফিট্ বা দুই ফিটের অধিক হয় না; কিন্তু পৃথিবীর বেড় প্রায় পাঁচিশ হাজার মাইল এবং মাটির ভিতর দিয়া মাঝখানটা মাপিলে প্রায় চারি হাজার মাইল হইয়া দাঁড়ায়। আমাদের পৃথিবীকে ফুট্‌বলের সঙ্গে তুলনা করা গেল বটে, কিন্তু এই ফুট্‌বলটি যে কত বড় তাহা অনায়াসে অনুমান করা যাইতে পারে। তার উপরে আবার পণ্ডিতেরা বলেন, বিনা সূতায় ফুট্‌বলকে আকাশে ঝুলাইয়া রাখিলে যেমন হয়, আমাদের গোলাকার বৃহৎ পৃথিবীটি ঠিক সেই-রকম আকাশে বিনা সূতায় ঝুলিয়া দৌড়াদৌড়ি করিতেছে। আমরা পৃথিবীর উপরকার ক্ষুদ্র প্রাণী, কাজেই আমরাও পৃথিবীর ঘাড়ে চাপিয়া ছুটিয়া চলিয়াছি।

 তোমরা হয় ত ভাবিতেছ, পৃথিবী যে সত্যই চলিতেছে তাহার প্রমাণ কোথায়?—ইহার প্রমাণ আছে। গাড়ী, নৌকা বা ষ্টীমারে চাপিয়া চলিবার সময়ে চাকার শব্দে, জলের শব্দে এবং তাহার হেলা-দোলাতে