বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গ্রাম্য উপাখ্যান - রাজনারায়ণ বসু.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৮
গ্রাম্য উপাখ্যান।

রামপ্রসাদ বসু কলিকাতার এক জন ধনাঢ্য ব্যক্তির চিকিৎসা করিয়াছিলেন, কয়েক ঘণ্টা পরে তাহার হরকরা আসিয়া তাঁহাকে ষোলটী টাকা দিয়া গেল। আমাদিগের দেশে যাঁহারা ধর্ম্ম-সমাজ ও রাজনীতিসংস্কার-কার্য্যে প্রবৃত্ত হইতেছেন তাঁহাদিগের সন্ন্যাসী হওয়া কর্ত্তব্য, অর্থাৎ জীবনোপায় জন্য ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা কর্ত্তব্য। নানকের আদি গ্রন্থে একটী কবিতা আছে। তাহা এক্ষণে আমাদিগের সম্পূর্ণরূপে স্মরণ হইতেছে না, তাহার প্রারম্ভে এই কয়েকটা কথা আছে, “কাহারে মন বিতয়ে উদম্।” ঐ কবিতার অর্থ এই যে “কেন হে মন! উপজীবিকা জন্য উদ্বিগ্ন হইতেছ। এই সকল জন্তুদিগকে কে আহার পান দিতেছেন? তাঁহার প্রতি নির্ভর কর।” এ বিষয়ে মহাত্মা খ্রীষ্টের উপদেশ প্রসিদ্ধই আছে। যাহারা ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করেন ঈশ্বর তাঁহাদিগকে আহার হইতে বঞ্চিত করেন না। আমরা একটী প্রকৃত ধার্ম্মিক বাঙ্গালী পাদ্রীর কথা জানি। তিনি খ্রীষ্টীয় প্রচার-সভা হইতে অতি অল্পই বেতন পান, অর্থকষ্ট বিলক্ষণ কিন্তু তিনি তাঁহার বন্ধুদিগকে বলেন যে যখনই তাঁহার নিতান্ত অর্থকষ্ট উপস্থিত হয় তখনই বিলাত হইতে কোন সাহেবের নিকট হইতে তাঁহার জন্য হুণ্ডি সম্বলিত পত্র আইসে। এইরূপ শত শত দৃষ্টান্ত দেওয়া যাইতে পাৱে। ভারতবর্ষের জন্য এক্ষণে উপরে উল্লিখিত কতক–