পাতা:ঘর-পোড়া লোক (শেষ অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১২

দারোগর দপ্তর, ৭৬ম সংখ্যা।


নিকট প্রেরিত হইলে, ইনিই আসিয়া তাহার অনুসন্ধান করেন। সেই সময় ইনি গোফুর খাঁর বাড়ীতে গিয়াও কয় দিবসকাল অতিবাহিত করেন। ইনি সেই সময় গোফুর খাঁর নিকট হইতে সহস্র মুদ্রা গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে সময় ইহারই সাহায্যে সেই মোকদ্দমায় গোফুর খাঁ জয়লাভ করেন, ও গাজিনগর গ্রাম সেই সময় হইতে সুচারুরূপে শাসন লইয়া আর কোনরূপ গোলযোগ ঘটে নাই। এই সময় হইতে দারোগা সাহেব সর্বদা গোফুরের নিকট গমন করিতেন, এবং আবশ্যক হইলে দুই একদিবস তথায় অবস্থানও করিতেন। কিন্তু যে পর্য্যন্ত তিনি সেই থানা হইতে বদলি হইয়া গিয়াছেন, সেই পর্যন্ত তিনি আর গোফুর খাঁর নিকট গমন করেন নাই, বা তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে সমর্থ হন নাই। গাজিনগর উপলক্ষে যে সময় দারোগা সাহেবের সহিত গোফুর খাঁর আলাপ পরিচয় হয়, হোসেনও সেই সময় হইতে তাহার নিকট পরিচিত। ইহার পর অনেক দিবস পর্য্যন্ত হোসেনের সহিত তাহার সাক্ষাৎ না হওয়ায়, প্রথমেই হোসেন দারোগা সাহেবকে চিনিয়া উঠিতে পারেন নাই। সেই কারণে তিনি মনে মনে একটু লজ্জিত হইলেন। যাহা হউক, তখন তিনি মনে করিলেন, থানার বাহিরে গিয়া আর তাহাকে রাত্রিযাপন করিতে হইবে না।

 হোসেন সেই স্থানে বসিয়া বসিয়া দারোগা সাহেব সম্বন্ধীয় পুরাতন কথা সকল মনে করিতেছেন, এমন সময়ে একজন প্রহরী আসিয়া কহিল, “দারোগা সাহেব আপনাকে সেলাম দিয়াছেন।”