৵১
স্বর্গত আত্মা বিশেষ পুলকিত হইবেন সন্দেহ নাই। এ স্থলে তাঁহার পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক হইবে না।
শৈল-কিরিটিনী, সাগর-কুন্তলা, সবিতমালিনী—চট্টলভূমি কবি প্রসবিনী। ইহার উত্তুঙ্গ গিরিশৃঙ্গে চন্দ্রশেখর, পূত সলিলা কর্ণফুলী তীরে মেধসাশ্রম হিন্দু ধর্ম্মের গৌরব পূর্ণ নিদর্শন
“কর্ণফুলা নদীতত্র স্নান মাত্রেণ প্রাণিনাং
বিকশৎ কর্ম্মতেজশ্চ বর্দ্ধতে হি দিনে দিনে”।
এই পার্ব্বতী মাতার অঙ্কে বসিয়া মাধ্যবাচার্য্য জাগরণ চণ্ডী রচনা করিয়াছিলেন। তিনি কবি কঙ্কণের পূর্ব্ববর্ত্তী। এ দেশেই ‘মৃগলব্ধ’ রচিত হইয়াছিল। এ দেশেই আলোয়াল পদ্মাবতী (পদ্মিনী উপাখ্যান) ও সপ্তপয়কর রচনা করেন। ইহা কবিকুল চূড়ামণি নবীনচন্দ্রের জন্মস্থান। এই চট্টগ্রামের অন্তর্গত জোয়ায়া গ্রামে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে প্রসিদ্ধ কায়স্থ বংশে রাধাচরণ রক্ষিত জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পারশ্য ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। কিছু দিন সুখ্যাতির সহিত ওকালতী ব্যবসা করিয়া মুন্সেফীর পদ গ্রহণ করেন।
তিনি জনহিতকর অনুষ্ঠানে বহুল অর্থব্যয় করিয়া জোয়ারা গ্রামকে উন্নত করিয়া তুলিয়াছিলেন। অবসর কালে তিনি ধর্ম্মশাস্ত্রালোচনা ও কবিতা রচনা করিতেন। তাঁহার পুত্র গিরিশচন্দ্র রক্ষিত একজন প্রসিদ্ধ কবিরাজ। তিনি চট্টগ্রামে সর্ব্ব প্রথম আয়ুর্ব্বেদ ঔষধালয় স্থাপন করেন। তাঁহার পৌত্র শ্রীযুক্ত ক্ষেমেশচন্দ্র রক্ষিত মধুরভাষী ও লোকহিতরত। তিনি সৌভাগ্য বান পুরুষ এবং লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করিয়া বহু সদনুষ্ঠানে উপার্জ্জিত অর্থের সদ্ব্যবহার করিতেছেন। বিশেষতঃ তিনি বহুল পরিমাণে পিতামহের কবিত্বসম্পদের উত্তরাধিকারী হইয়াছেন।