পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S e 8 চতুরঙ্গ মাঝে নদীর পাড়ি ভাঙিয়া হুড় মুড়, কুড়হড়, করিয়া উঠিতেছে, আর আমাদের জীর্ণ বাড়িটার পাজরগুলার ফঁাকের ভিতর দিয়া বারবার বাতাসের তীক্ষ ছুরি বিধিয়া সে কেবলই একটা জন্তুর মতো হু হু করিয়া চীৎকার করিতেছে । এইরকম রাতে আমাদের মনের জানলা-দরজার ছিটকিনিগুলা নড়িয়া যায়, ভিতরে ঝড় ঢুকিয়া পড়ে, ভদ্র আসবাবগুলাকে উলটপালট করিয়া দেয়, পর্দাগুলো ফরফর করিয়া কে কোন দিকে যে অদ্ভুতরকম করিয়া উড়িতে থাকে তার ঠিকানা পাওয়া যায় না। আমার ঘুম হইতেছিল না। বিছানায় পড়িয়া পড়িয়া কী-সব কথা ভাবিতেছিলাম তাহা এখানে লিখিয়া কী হইবে । এই ইতিহাসে সেগুলো জরুরি কথা নয় । এমন সময়ে শচীশ একবার তার ঘরের অন্ধকারের মধ্যে বলিয়া উঠিল, “কে ও ” উত্তর শুনিল, “আমি দামিনী । তোমার জানলা খোলা, ঘরে বৃষ্টির ছাট আসিতেছে । বন্ধ করিয়া দিই ।” বন্ধ করিতে করিতে দেখিল, শচীশ বিছানা হইতে উঠিয় পড়িয়াছে । মুহুর্তকালের জন্য যেন দ্বিধা করিয়া তার পরে বেগে ঘর হইতে সে বাহির হইয়া গেল । বিদ্যুৎ চমক দিতে লাগিল এবং একটা চাপা বজ্র গরগর করিয়া উঠিল । দামিনী অনেকক্ষণ নিজের ঘরের চৌকাঠের পরে বসিয়া রহিল। কেহই ফিরিয়া আসিল না । দমকা হাওয়ার অধৈর্য ক্রমেই বাড়িয়া চলিল । দামিনী আর থাকিতে পারিল না, বাহির হইয়া পড়িল ।