পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐবিলাস } e? ঠিক এমন সংকটের সময় বলিলাম, “দামিনী, একটি পথ আছে, যদি অভয় দাও তো বলি।” দামিনী বলিল, “বলে শুনি ।” আমি বলিলাম, “যদি আমার মতো মানুষকে বিবাহ করা : তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তবে—” দামিনী অামাকে থামাইয়া দিয়া বলিল, “ও কী কথা বলিতেছ ঐবিলাসবাবু। তুমি কি পাগল হইয়াছ।” আমি বলিলাম, “মনে করে-না পাগলই হইয়াছি। পাগল হইলে অনেক কঠিন কথা অতি সহজে মীমাংসা করিবার শক্তি জন্মায়। পাগলামি আরব্য-উপন্যাসের সেই জুতা, যা পায়ে দিলে সংসারের হাজার হাজার বাজে কথাগুলো একেবারে ডিঙাইয়া যাওয়া যায়।” “বাজে কথা ? কাকে তুমি বল বাজে কথা ।” “এই যেমন, লোকে কী বলিবে, ভবিষ্যতে কী ঘটিবে, ইত্যাদি ইত্যাদি ।” দামিনী বলিল, “আর আসল কথা ?” আমি বলিলাম, “কাকে বল তুমি আসল কথা।” “এই যেমন, আমাকে বিবাহ করিলে তোমার কী দশা হইবে।” “এইটেই যদি আসল কথা হয় তবে আমি নিশ্চিন্ত । কেননা, আমার দশা এখন যা আছে তার চেয়ে খারাপ হইবে না। দশাটাকে সম্পূর্ণ ঠাই-বদল করাইতে পারিলেই বাচিতাম, অন্ততপক্ষে পাশ ফিরাইতে পারিলেও একটুখানি আরাম পাওয়া যায়।”