পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাস > S > প্রথম দিনে আমার প্রস্তাবট চাকা ভাঙিয়া যে মেনের গর্তটার মধ্যে পড়িল, মনে হইয়াছিল, এইখানেই বুঝি হঁ এবং না দুইয়েরই বাহিরে পড়িয়া সেটা আটক খাইয়া গেল— অন্তত অনেক মেরামত এবং অনেক হেঁইহুই করিয়া যদি ইহাকে টানিয়া তোলা যায়। কিন্তু অভাবনীয় পরিহাসে মনোবিজ্ঞানকে ফাকি দিবার জন্যই মনের স্থষ্টি। স্বষ্টিকর্তার সেই আনন্দের উচ্চহাস্য এবারকার ফান্থনে এই ভাড়াটে বাড়ির দেয়াল কটার মধ্যে বারবার ধ্বনিয়া ধ্বনিয়া উঠিল । আমি যে একটা-কিছু, দামিনী এতদিন সে কথা লক্ষ করিবার সময় পায় নাই, বোধ করি আর-কোনো দিক হইতে তার চোখে বেশি একটা আলো পড়িয়াছিল। এবারে তার সমস্ত জগৎ সংকীর্ণ হইয়া সেইটুকুতে আসিয়া ঠেকিল যেখানে আমিই কেবল একলা। কাজেই আমাকে সম্পূর্ণ চোখ মেলিয়া দেখা ছাড়া আর উপায় ছিল না। আমার ভাগ্য ভালো, তাই ঠিক এই সময়টাতেই দামিনী আমাকে যেন প্রথম দেখিল । অনেক নদীপৰ্বতে সমুদ্রতীরে দামিনীর পাশে পাশে ফিরিয়াছি, সঙ্গে সঙ্গে খোল-করতালের ঝড়ে রসের তানে বাতাসে আগুন লাগিয়াছে ; “তোমার চরণে আমার পরানে লাগিল প্রেমের ফাসি’ এই পদের শিখা নূতন নূতন আখরে ফুলিঙ্গ বর্ষণ করিয়াছে। তবু পর্দা পুড়িয়া যায় নাই। কিন্তু, কলিকাতার এই গলিতে এ কী হইল । ঘোষাঘেষি ঐ বাড়িগুলো চারি দিকে যেন পারিজাতের ফুলের মতো ফুটিয়া উঠিল। বিধাতা তার বাহাদুরি দেখাইলেন বটে। এই