পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


9 3 २ চতুরঙ্গ ইটকাঠগুলোকে তিনি তার গানের স্বর করিয়া তুলিলেন। আর, আমার মতো সামান্ত মানুষের উপর তিনি কী পরশমণি ছোয়াইয়া দিলেন, আমি এক মুহুর্তে অসামান্ত হইয়। উঠিলাম। 聲 যখন আড়াল থাকে তখন অনস্তকালের ব্যবধান, যখন আড়াল ভাঙে তখন সে এক-নিমেষের পাল্লা। আর দেরি হইল না। দামিনী বলিল, “আমি একটা স্বপ্নের মধ্যে ছিলাম, কেবল এই একটা ধাক্কার অপেক্ষ ছিল। আমার সেই-তুমি আর এই-তুমির মাঝখানে ওটা কেবল একটা ঘোর আসিয়াছিল। আমার গুরুকে আমি বারবার প্রণাম করি তিনি আমার এই ঘোর ভাঙাইয়া দিয়াছেন।” আমি দামিনীকে বলিলাম, “দামিনী, তুমি অত করিয়া আমার মুখের দিকে চাহিয়ে না। বিধাতার এই স্বষ্টিট যে সুদৃশু নয় সে তুমি পূর্বে একদিন যখন আবিষ্কার করিয়াছিলে তখন সহিয়াছিলাম, কিন্তু এখন সহ করা ভারি শক্ত হইবে।” দামিনী কহিল, “বিধাতার ঐ স্থষ্টিট যে সুদৃশু, আমি সেইটেই আবিষ্কার করিতেছি।” আমি কহিলাম, “ইতিহাসে তোমার নাম থাকিবে । উত্তরমেরুর মাঝখানটাতে যে দুঃসাহসিক আপনার নিশান গাড়িবে তার কীর্তিও এর কাছে তুচ্ছ । এ তো ছঃসাধ্যসাধন নয়, এ যে অসাধ্যসাধন * ফাল্গুন মাসটা এমন অত্যন্ত ছোটাে তাহা ইহার পূর্বে কখনো এমন নিঃসংশয়ে বুঝি নাই। কেবলমাত্র ত্রিশটা দিন—