পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


} Yo চতুরঙ্গ লাগিলাম, সেই কষ্টেই আমাদের আনন্দ । আমার ছিল রায়চাঁদপ্রেমৰ্চাদের মার্ক ; প্রোফেসারি সহজেই জুটিল । তার উপরে একৃজামিন-পাসের পেটেণ্ট, ঔষধ বাহির করিলাম— পাঠ্যপুস্তকের মোটা মোটা নোট । আমাদের অভাব অল্পই, এত করিবার দরকার ছিল না। কিন্তু দামিনী বলিল, শচীশকে যেন তার জীবিকার জন্ত ভাবিতে না হয়, এটা আমাদের দেখা চাই। আরএকটা কথা দামিনী আমাকে বলিল না, আমিও তাকে বলিলাম না— চুপি চুপি কাজটা সারিতে হইল। দামিনীর ভাইঝি-তুটির সৎপাত্রে যাহাতে বিবাহ হয় এবং ভাইপো-কয়টা পড়াশুনা করিয়া মানুষ হয়, সেটা দেখিবার শক্তি দামিনীর ভাইদের ছিল না । তারা আমাদের ঘরে ঢুকিতে দেয় না – কিন্তু অর্থসাহায্য জিনিসটার জাতিকুল নাই, বিশেষত সেটাকে যখন গ্রহণমাত্র করাই দরকার, স্বীকার করা নিম্প্রয়োজন । কাজেই আমার অন্ত কাজের উপর একটা ইংরেজি কাগজের সাব-এডিটারি লইতে হইল। আমি দামিনীকে না বলিয়া একটা উড়ে বামুন, বেহার এবং একটা চাকরের বন্দোবস্ত করিলাম । দামিনীও আমাকে না বলিয়া পরদিনেই সব-কটাকে বিদায় করিয়া দিল। আমি আপত্তি করিতেই সে বলিল, “তোমরা কেবলই উলটা বুঝিয়া দয়া কর । তুমি খাটিয়া হয়রান হইতেছ, আর আমি যদি না খাটিতে পাই তবে আমার সে দুঃখ আর সে লজ্জা বহিবে কে ” বাহিরে আমার কাজ আর ভিতরে দামিনীর কাজ, এই দুইয়ে যেন গঙ্গাযমুনার স্রোত মিলিয়া গেল। ইহার উপরে