পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


To 8 চতুরঙ্গ বাংলার মেকলে, কাহারো মতে বাংলার জনসন । শামুকের খোলার মতো তিনি যেন ইংরেজি বই দিয়া ঘেরা। মুড়ির রেখা ধরিয়া পাহাড়ে-ঝরনার পথ যেমন চেনা যায় তেমনি বাড়ির মধ্যে কোন কোন অংশে তার চলাফেরা তাহা মেজে হইতে কড়ি পর্যন্ত ইংরেজি বইয়ের বোঝা দেখিলেই বুঝা যাইত। হরিমোহন র্তার বড়ো ছেলে পুরন্দরকে স্নেহের রসে একেবারে গলাইয়া দিয়াছিলেন । সে যাহা চাহিত তাহাতে তিনি না করিতে পারিতেন না । তার জন্য সর্বদাই তার চোখে যেন জল ছলছল করিত ; র্তার মনে হইত, কোনো কিছুতে বাধা দিলে সে যেন বাচিবে না । পড়াশুনা কিছু তার হইলই না— সকাল-সকাল বিবাহ হইয়া গেল এবং সেই বিবাহের চতুঃসীমানার মধ্যে কেহই তাহাকে ধরিয়া রাখিতে পারিল না। হরিমোহনের পুত্রবধূ ইহাতে উদ্যমের সহিত আপত্তি প্রকাশ করিত এবং হরিমোহন তার পুত্রবধূর উপর অত্যন্ত রাগ করিয়া বলিতেন, ঘরে তার উৎপাতেই তার ছেলেকে বাহিরে সান্তনার পথ খুজিতে হইতেছে। এই-সকল কাণ্ড দেখিয়াই পিতৃস্নেহের বিষম বিপত্তি হইতে শচীশকে বাচাইবার জন্য জগমোহন তাহাকে নিজের কাছ হইতে একটু ও ছাড়া দিলেন না। শচীশ দেখিতে দেখিতে অল্প বয়সেই ইংরেজি লেখায় পড়ায় পাকা হইয়া উঠিল । কিন্তু সেইখানেই তো থামিল না । তার মগজের মধ্যে মিল-বেস্থামের অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়া সে যেন নাস্তিকতার মশালের মতো জ্বলিতে লাগিল ।