পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bte চতুরঙ্গ শচীশের মন হইতে আমি লজ্জার বাসা ভাঙিয়া দিতেছি।” O লেখাপড়া-শেখা সারা হইল। এখন হরিমোহন শচীশকে তার জ্যাঠার হাত হইতে উদ্ধার করিবার জন্য উঠিয়া-পড়িয়া লাগিলেন । কিন্তু মাছ তখন টোপও গিলিয়াছে বড়শিও তাকে বিধিয়াছে ; তাই এক পক্ষের টান যতই বাড়িল অপর পক্ষের বাধনও ততই অঁাটিল । ইহাতে হরিমোহন ছেলের চেয়ে দাদার উপরে বেশি রাগ করিতে লাগিলেন ; দাদার সম্বন্ধে রঙবেরঙের নিন্দায় পাড়া ছাইয়া দিলেন। শুধু যদি মত-বিশ্বাসের কথা হইত হরিমোহন আপত্তি করিতেন না ; মুরগি খাইয়া লোকসমাজে সেটাকে পাঠা বলিয়া পরিচয় দিলেও তিনি সহ করিতেন ; কিন্তু ইহার এতদূরে গিয়াছিলেন যে, মিথ্যার সাহায্যেও ইহাদিগকে ত্রাণ করিবার উপায় ছিল না। যেটাতে সব চেয়ে বাধিল সেটা বলি । জগমোহনের নাস্তিকধর্মের একটা প্রধান অঙ্গ ছিল লোকের ভালো করা ; সেই ভালো-করার মধ্যে অন্ত যে-কোনো রস থাক একটা প্রধান রস এই ছিল যে, নাস্তিকের পক্ষে লোকের ভালো-করার মধ্যে নিছক নিজের লোকসান ছাড়া আর কিছুই নাই – তাহাতে না আছে পুণ্য, না আছে পুরস্কার, না আছে কোনো দেবতা বা শাস্ত্রের বকশিশের বিজ্ঞাপন বা চোখরাঙানি । যদি কেহ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিত, “ ‘প্রচুরতম . লোকের প্রভূততম মুখসাধনে আপনার গরজটা কী ?” তিনি বলিতেন,