পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যাঠামশায় . . ३) গৰ্জিয়া উঠিয়া বলিল, “তাই বটে ! তুই এখানে ৷” জাগিয়া উঠিয়া পুরন্দরকে দেখিয়া ননির মুখ একেবারে ফ্যাকাশে হইয়া গেল। সে পলাইবে কিম্বা একটা কথা বলিবে এমন শক্তি তার রহিল না । পুরন্দর রাগে কঁাপিতে কঁাপিতে ডাকিল, “ননি ৷” এমন সময় জগমোহন পশ্চাৎ হইতে ঘরে প্রবেশ করিয়া চীৎকার করিলেন, “বেরো ! আমার ঘর থেকে বেরো ” পুরন্দর ক্রুদ্ধ বিড়ালের মতো ফুলিতে লাগিল। জগমোহন কহিলেন, “যদি না যাও আমি পুলিস ডাকিব ।” পুরন্দর একবার ননির দিকে অগ্নিকটাক্ষ ফেলিয়া চলিয়া গেল। ননি মূৰ্ছিত হইয়া পড়িল । জগমোহন বুঝিলেন, ব্যাপারটা কী । তিনি শচীশকে ডাকিয়া প্রশ্ন করিয়া বুঝিলেন, শচীশ জানিত পুরন্দরই ননিকে নষ্ট করিয়াছে ; পাছে তিনি রাগ করিয়া গোলমাল করেন এইজন্য র্তাকে কিছু বলে নাই । শচীশ মনে জানিত, কলিকাতা শহরে আর-কোথাও পুরন্দরের উৎপাত হইতে ননির নিস্তার নাই, একমাত্র জ্যাঠার বাড়িতে সে কখনো পারতপক্ষে পদার্পণ করিবে না । ননি একটা ভয়ের হাওয়ায় কয়দিন যেন বঁাশপাতার মতো ফঁাপিতে লাগিল । তার পরে একটি মৃত সন্তান প্রসব করিল। পুরন্দর একদিন লাথি মারিয়া ননিকে অর্ধরাত্রে বাড়ি হইতে বাহির করিয়া দিয়াছিল । তার পরে অনেক খোজ করিয়া তাহাকে পায় নাই। এমন সময়ে জ্যাঠার বাড়িতে তাহাকে