পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যাঠামশায় "919 তুমি তোমার এটো পাতের অর্ধেক আমাকে দিয়া কুকুর জুলাইতে আসিয়াছ ! আমি তোমার মতো ধাৰ্মিক নই, আমি নাস্তিক, সে কথা মনে রাখিয়ো । আমি রাগের শোধও লই না, অনুগ্রহের ভিক্ষাও লই না।” হরিমোহন শচীশের মেসে গিয়া উপস্থিত হইলেন । তাহাকে নিভৃতে ডাকিয়া লইয়া কহিলেন, “এ কী শুনি । তোর কি মরিবার আর জায়গা জুটিল না। এমন করিয়া কুলে কলঙ্ক দিতে বসিলি ?” শচীশ বলিল, “কুলের কলঙ্ক মুছিবার জন্যই আমার এই চেষ্টা, নহিলে বিবাহ করিবার শখ আমার নাই ।” হরিমোহন কহিলেন, “তোর কি ধৰ্মজ্ঞান একটুও নাই। ঐ মেয়েট তোর দাদার স্ত্রীর মতে, উহাকে তুই—” শচীশ বাধা দিয়া বলিয়া উঠিল, “স্ত্রীর মতো ? এমন কথা মুখে উচ্চারণ করবেন না।” ইহার পরে হরিমোহন যা মুখে আসিল তাই বলিয়া শচীশকে গাল পাড়িতে লাগিলেন । শচীশ কোনো উত্তর করিল না । হরিমোহনের বিপদ ঘটিয়াছে এই যে, পুরন্দর নির্লজের মতো বলিয়া বেড়াইতেছে যে, শচীশ যদি ননিকে বিবাহ করে তবে সে আত্মহত্যা করিয়া মরিবে । পুরন্দরের স্ত্রী বলিতেছে, “তাহা হইলে স্তে আপদ চোকে, কিন্তু সে তোমার ক্ষমতায় কুলাইবে না।” হরিমোহন পুরন্দরের এই শাসানি সম্পূর্ণ যে বিশ্বাস করেন তা নয়, অথচ তার ভয়ও যায় না । শচীশ এতদিন ননিকে এড়াইয়া চলিত— একলা তো \9