পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(88 চতুরঙ্গ এ চেহারা নয় ।” শচীশ কহিল, “সে যে ছিল ডাঙার উপরকার মুক্তি, তখন কাজের ক্ষেত্রে জ্যাঠামশায় আমার হাত-পাকে সচল করিয়া দিয়াছিলেন। আর, এ-যে রসের সমুদ্র, এখানে নৌকার বঁাধনই যে মুক্তির রাস্তা। তাই তো গুরু আমাকে এমন করিয়া চারি দিক হইতে সেবার মধ্যে আটকাইয়া ধরিয়াছেন— আমি পা টিপিয়া পার হইতেছি।” আমি বলিলাম, “তোমার মুখে এ কথা মন্দ শোনায় না, কিন্তু যিনি তোমার দিকে এমন করিয়া পা বাড়াইয়া দিতে *ांrद्रन डिनि-” শচীশ কহিল, “ৰ্তার সেবার দরকার নাই বলিয়াই এমন করিয়া পা বাড়াইয়া দিতে পারেন, যদি দরকার থাকিত তবে লজ্জা পাইতেন— দরকার যে আমারই ।” বুঝিলাম, শচীশ এমন-একটা জগতে আছে আমি যেখানে একেবারেই নাই। মিলনমাত্র যে-আমাকে শচীশ বুকে জড়াইয়া ধরিয়াছিল সে-আমি শ্ৰীবিলাস নয়— সে-আমি সর্বভূত, সেআমি একটা আইডিয়া । এই ধরনের আইডিয়া জিনিসটা মদের মতো ; নেশার বিহ্বলতায় মাতাল যাকে-তাকে বুকে জড়াইয়া অশ্রুবর্ষণ করিতে পারে, তখন আমিই কী আর অন্তই কী । কিন্তু এই বুকেজড়ানোতে মাতালের যতই আনন্দ থাক, আমার তো নাই ; আমি তো ভেদজ্ঞানবিলুপ্ত একাকারত-বস্তার একটা ঢেউমাত্র হুইতে চাই না— আমি যে আমি ।