পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


@b" छछूब्रण চাবির গোচ্ছা বাজিয়া ওঠে, যেখানে রান্নাঘর হইতে রান্নার গন্ধ উঠিতে থাকে, যেখানে ঘর ঝাট দিবার শব্দ শুনিতে পাই— যেখানে সব তুচ্ছ কিন্তু সব সত্য, সব মধুরে-তীত্রে স্থলে-মুঙ্গে মাখামাখি, সেইখানেই রসের স্বর্গ। বিধবার নাম ছিল দামিনী y তাকে আড়ালে-আবডালে # ক্ষণে ক্ষণে চকিতে দেখিতে পাইতাম। আমরা হই বন্ধু গুরুর এমন একাত্ম ছিলাম যে, অল্পকালের মধ্যেই আমাদের কাছে দামিনীর আর আড়াল-আবড়াল রহিল না । দামিনী যেন শ্রাবণের মেঘের ভিতরকার দামিনী । বাহিরে সে পুঞ্জ পুঞ্জ যৌবনে পূর্ণ; অন্তরে চঞ্চল আগুন ঝিকমিক্‌ করিয়া উঠিতেছে। শচীশের ডায়ারিতে এক জায়গায় আছে : মনিবালার মধ্যে আমি নারীর এক বিশ্বরূপ দেখিয়াছি —অপবিত্রের কলঙ্ক যে নারী আপনাতে গ্রহণ করিয়াছে, পাপিষ্ঠের জন্য যে নারী জীবন দিয়া ফেলিল, যে নারী মরিয়া জীবনের মৃধাপাত্র পূর্ণতর করিল। দামিনীর মধ্যে নারীর আর-এক বিশ্বরূপ দেখিয়াছি ; সে নারী মৃত্যুর কেহ নয়, সে জীবনরসের রসিক। বসন্তের পুষ্পবনের মতো লাবণ্যে গন্ধে হিল্লোলে সে কেবলই ভরপুর হইয়া উঠিতেছে ; সে কিছুই ফেলিতে চায় না ; সে সন্ন্যাসীকে ঘরে স্থান দিতে নারাজ ; সে উত্তরে হাওয়াকে সিকি-পয়সা খাজনা দিবে না পণ করিয়া বসিয়া আছে।