পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●bア চতুরঙ্গ সেই আদিম জন্তুটা আমাকে তার লালাসিক্ত কবলের মধ্যে পুরিয়াছে, আমার কোনো দিকে আর বাহির হইবার পথ নাই। এ কেবল একটা কালো ক্ষুধা, এ আমাকে অল্প অল্প করিয়া লেহন করিতে থাকিবে এবং ক্ষয় করিয়া ফেলিবে । ইহার রস জারক রস, তাহা নিঃশব্দে জীর্ণ করে । ঘুমাইতে পারিলে বাচি ; আমার জাগ্রৎ চৈতন্য এতবড়ো সর্বনাশা অন্ধকারের নিবিড় আলিঙ্গন সহিতে পারে না, এ কেবল মৃত্যুরই সহে । জানি না কতক্ষণ পরে, সেটা বোধ করি ঠিক ঘুম নয়, অসাড়তার একটা পাতলা চাদর আমার চেতনার উপরে ঢাকা পড়িল ৷ এক সময়ে সেই তন্দ্রাবেশের ঘোরে আমার পায়ের কাছে প্রথমে একটা ঘন নিশ্বাস অনুভব করিলাম। ভয়ে আমার শরীর হিম হইয়া গেল। সেই আদিম জন্তুটা ! তার পরে কিসে আমার পা জড়াইয়া ধরিল। প্রথমে ভাবিলাম, কোনো একটা বুনো জন্তু। কিন্তু তাদের গায়ে তো রোওয়া আছে, এর রোওয়া নাই । আমার সমস্ত শরীর যেন কুঞ্চিত হইয়া উঠিল । মনে হইল, একটা সাপের মতো জন্তু, তাহাকে চিনি না । তার কী রকম মুগু, কী রকম গা, কী রকম লেজ কিছুই জানা নাই— তার গ্রাস করিবার প্রণালীট কী ভাবিয়া পাইলাম না । সে এমন নরম বলিয়াই এমন বীভৎস, সেই ক্ষুধার পুঞ্জ ! ভয়ে ঘৃণায় আমার কণ্ঠরোধ হইয়া গেল। আমি দুই পা দিয়া তাহাকে ঠেলিতে লাগিলাম। মনে হইল, সে আমার