পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দামিনী צר শচীশ বলিল, “তোমরা গুরু মান না বলিয়াই জান না যে, গুরুই আমাদের সেই হাল । সাধনাকে নিজের খেয়ালমত গড়িতে চাও ? শেষকালে মরিবে ।” এই কথা বলিয়া শচীশ গুরুর ঘরে গেল এবং র্তার পায়ের কাছে বসিয়া পা টিপিতে শুরু করিয়া দিল । সেইদিন শচীশ গুরুর জন্য তামাক সাজিয়া দিয়া তার কাছে প্রকৃতির নামে নালিশ রুজু করিল। এক দিনের তামাকে কথাটা শেষ হইল না। অনেক দিন ধরিয়া গুরু অনেক চিন্তা করিলেন। দামিনীকে লইয়া তিনি বিস্তর ভুগিয়াছেন। এখন দেখিতেছেন, এই একটিমাত্র মেয়ে তার ভক্তদের একটানা ভক্তিস্রোতের মাঝখানে বেশ একটি ঘূর্ণির স্মৃষ্টি করিয়া তুলিয়াছে। কিন্তু, শিবতোষ বাড়িঘর-সম্পত্তি-সমেত দামিনীকে তার হাতে এমন করিয়া সঁপিয়া গেছে যে, তাকে কোথায় সরাইবেন তা ভাবিয়া পাওয়া কঠিন । তার চেয়ে কঠিন এই যে, গুরু দামিনীকে ভয় করেন । 4 এ দিকে শচীশ উৎসাহের মাত্রা দ্বিগুণ চেগুণ চড়াইয়া এবং ঘন ঘন গুরুর পা টিপিয়া, তামাক সাজিয়া, কিছুতেই এ কথা ভুলিতে পারিল না যে, প্রকৃতি তার সাধনার রাস্তায় দিব্য করিয়া আডডা গাড়িয়া বসিয়াছে । একদিন পাড়ায় গোবিন্দজির মন্দিরে একদল নামজাদ বিদেশী কীর্তনওয়ালার কীর্তন চলিতেছিল। পালা শেষ হইতে অনেক রাত হইবে । আমি গোড়ার দিকেই ফন্স করিয়া উঠিয়া আসিলাম, আমি যে নাই তা সেই ভিড়ের মধ্যে কারো কাছে ধরা পড়িবে