পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দামিনী ዓ¢ রাখে নাই। সে যতই বুঝিল গুরুজি মনে মনে ভয় এবং শচীশ মনে মনে ব্যথা পাইতেছে ততই সে আমাকে লইয়া আরো বেশি টানাটানি করিতে লাগিল। এমন হইল যে হয়তো আমি শচীশ এবং গুরুজি বসিয়া কথা চলিতেছে, এমন সময় দরজার কাছে আসিয়া দামিনী ডাক দিয়া গেল, “স্ত্রীবিলাসবাবু, একবার আমুন তো।” ঐবিলাসবাবুকে কী যে তার দরকার তাও বলে না। গুরুজি আমার মুখের দিকে চান, শচীশ আমার মুখের দিকে চায়, আমি উঠি কি না-উঠি করিতে করিতে দরজার দিকে তাকাইয়া ধণ করিয়া উঠিয়া বাহির হইয়া যাই । আমি চলিয়া গেলেও খানিকক্ষণ কথাটা চালাইবার একটু চেষ্টা চলে, কিন্তু চেষ্টাটা কথাটার চেয়ে বেশি হইয় উঠে, তার পরে কথাটা বন্ধ হইয়া যায়। এমনি করিয়া ভারি একটা ভাঙাচোরা এলোমেলো কাগু হইতে লাগিল, কিছুতে কিছু আর অঁাট বাধিতে চাহিল না । আমরা কুজনেই গুরুজির দলের দুই প্রধান বাহন, ঐরাবত এবং উচ্চৈঃশ্রব বলিলেই হয়— কাজেই আমাদের আশা তিনি সহজে ছাড়িতে পারেন না। তিনি আসিয়া দামিনীকে বলিলেন, “মা দামিনী, এবার কিছু দূর ও দুর্গম জায়গায় যাইব । এখান হইতেই তোমাকে ফিরিয়া যাইতে হইবে।” “কোথায় যাইব ।” “তোমার মাসির ওখানে ।”

  • সে আমি পারিব না ।”
  • कन ।”