পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাস এখানে এক সময়ে নীলকুঠি ছিল। তার সমস্ত ভাঙিয়াচুরিয়া গেছে, কেবল গুটিকতক ঘর বাকি । দামিনীর মৃতদেহ দাহ করিয়া দেশে ফিরিয়া আসিবার সময় এই জায়গাটা আমার পছন্দ হইল, তাই কিছুদিনের জন্য এখানে রহিয়া গেলাম। " নদী হইতে কুঠি পর্যন্ত যে রাস্তা ছিল তার দুই ধারে শিশুগাছের সারি। বাগানে ঢুকিবার ভাঙা গেটের দুটা থাম আর পাচিলের এক দিকের খানিকট আছে, কিন্তু বাগান নাই। থাকিবার মধ্যে এক কোণে কুঠির কোন-এক মুসলমান গোমস্তার গোর ; তার ফাটলে ফাটলে ঘন ঝোপ করিয়া ভাটিফুলের এবং আকন্দের গাছ উঠিয়াছে, একেবারে ফুলে ভরা— বাসর-ঘরে শু্যালীর মতো মৃত্যুর কান মলিয়া দিয়া দক্ষিন বাতাসে তারা হাসিয়া লুটােপুটি করিতেছে। দিঘির পাড় ভাঙিয়া জল শুকাইয়া গেছে ; তার তলায় ধোনের সঙ্গে মিলাইয়া চাষিরা ছোলার চাষ করিয়াছে ; আমি যখন সকালবেলায় শ্বাংলা-পড়া ইটের ঢিবিটার উপরে শিশুর ছায়ায় বসিয়া থাকি তখন ধোনে ফুলের গন্ধে আমার মগজ ভরিয়া যায়। বসিয়া বসিয়া ভাবি, এই নীলকুঠি, যেটা আজ গো-ভাগাড়ে গোরুর হাড়-কখানার মতো পড়িয়া আছে, সে যে একদিন সজীব ছিল । সে আপনার চারি দিকে সুখদুঃখের যে ঢেউ তুলিয়াছিল, মনে হইয়াছিল, সে তুফান কোনোকালে শাস্ত হইবে না । যে প্রচণ্ড সাহেবটা এইখানে বসিয়া হাজার হাজার গরিব চাষার