পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাস し列○ রক্তকে নীল করিয়া তুলিয়াছিল তার কাছে আমি সামান্ত বাঙালির ছেলে কে-ই বা । কিন্তু পৃথিবী কোমরে আপন সবুজ আঁচলখানি অঁাটিয়া বাধিয়া অনায়াসে তাকে-মুদ্ধ তার নীলকুঠিস্বদ্ধ সমস্ত বেশ করিয়া মাটি দিয়া নিছিয়া পুছিয়া নিকাইয়া দিয়াছে— যা একটু-আধটু সাবেক দাগ দেখা যায় আরো এক পোচ লেপ পড়িলেই একেবারে সাফ হইয়া যাইবে । কথাটা পুরানো, আমি তার পুনরুক্তি করিতে বসি নাই। আমার মন বলিতেছে, না গো, প্রভাতের পর প্রভাতে এ কেবলমাত্র কালের উঠান-নিকানো নয়। সেই নীলকুঠির সাহেবট আর তার নীলকুঠির বিভীষিকা একটুখানি ধুলার চিহ্নের মতো মুছিয়া গেছে বটে— কিন্তু আমার দামিনী ! আমি জানি, আমার কথা কেহ মানিবে না। শঙ্করাচার্যের মোহমুদগর কাহাকেও রেহাই করে না। মায়াময়মিদমখিলং ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু শঙ্করাচার্য ছিলেন সন্ন্যাসী । কল তব কান্ত কস্তে পুত্র এ-সব কথা তিনি বলিয়াছিলেন, কিন্তু এর মানে বুঝেন নাই । আমি সন্ন্যাসী নই, তাই আমি বেশ করিয়া জানি, দামিনী পদ্মের পাতায় শিশিরের ফোটা নয় । কিন্তু শুনিতে পাই গৃহীরাও এমন বৈরাগ্যের কথা বলে । তা হইবে । তারা কেবলমাত্র গৃহী, তার হারায় তাদের গৃহিণীকে । তাদের গৃহও মায়া বটে, তাদের গৃহিণীও তাই। ও-সব যে হাতেগড়া জিনিস, বাট পড়িলেই পরিষ্কার হইয়া যায়। আমি তো গৃহী হইবার সময় পাইলাম না, আর সন্ন্যাসী হওয়া আমার ধাতে নাই— সেই আমার রক্ষা । তাই আমি যাকে