পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুরঙ্গ و هم মুষ্টিভিক্ষা নহেন ; যদি তাকে পাই তো আমি তাকে পাইব নহিলে নিধনং শ্রেয়ঃ * তর্ক করা আমার স্বভাব, আমি সহজে ছাড়িবার পাত্র নই ; আমি বলিলাম, “যে কবি সে মনের ভিতর হইতে কবিতা পায়, যে কবি নয় সে অন্তোর কাছ হইতে কবিতা নেয় ।” শচীশ অমানমুখে বলিল, “আমি কবি ।” বাস, চুকিয়া গেল। চলিয়া আসিলাম । শচীশের খাওয়া নাই, শোওয়া নাই, কখন কোথায় থাকে ছশ থাকে না। শরীরটা প্রতিদিনই যেন অতি-শান-দেওয়া ছুরির মতো সূক্ষ্ম হইয়া আসিতে লাগিল । দেখিলে মনে হইত, আর সহিবে না। তবু আমি তাকে ঘাটাইতে সাহস করিতাম না। কিন্তু দামিনী সহিতে পারিত না । ভগবানের উপর সে বিষম রাগ করিত— যে তাকে ভক্তি করে না তার কাছে তিনি জব্দ, আর ভক্তের উপর দিয়াই কি এমন করিয়া তার শোধ তুলিতে হয় গা ? লীলানন্দস্বামীর উপর রাগ করিয়া দামিনী মাঝে-মাঝে সেটা বেশ শক্ত করিয়া জানান দিত, কিন্তু ভগবানের নাগাল পাইবার উপায় ছিল না। তবু, শচীশকে সময়মত নাওয়ানো-খাওয়ানোর চেষ্টা করিতে সে ছাড়িত না । এই খাপছাড়া মানুষটাকে নিয়মে বাধিবার জন্য সে যে কতরকম ফিকির-ফন্দি করিত তার আর সংখ্যা ছিল बी | অনেক দিন শচীশ ইহার স্পষ্ট কোনো প্রতিবাদ করে নাই । একদিন সকালেই নদী পার হইয়া, ও পারে বালুচরে সে চলিয়া