পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাস >> একটু সে সুস্থ হইলে আমি তাকে বলিলাম, ‘শচীশের শরীরের জন্য তুমি এত ভাব কেন ।” দামিনী বলিল, “আর কিসের জন্ত আমি ভাবিতে পারি বলে । আর-সব ভাবনা তো উনি আপনিই ভাবিতেছেন। আমি কি তার কিছু বুঝি, না, আমি তার কিছু করিতে পারি ?” আমি বলিলাম, “দেখো, মানুষের মন যখন অত্যন্ত জোরে কিছু একটাতে গিয়া ঠেকে তখন আপনিই তার শরীরের সমস্ত প্রয়োজন কমিয়া যায়। সেইজন্তেই বড়ো দুঃখে কিম্বা বড়ে আনন্দে মামুষের ক্ষুধাতৃষ্ণা থাকে না। এখন শচীশের যেরকম মনের অবস্থা তাতে ওর শরীরের দিকে যদি মন না দাও, ওর ক্ষতি হইবে না।” দামিনী বলিল, “আমি যে স্ত্রীজাত— ঐ শরীরটাকেই তো দেহ দিয়া, প্রাণ দিয়া, গড়িয়া তোলা আমাদের স্বধৰ্ম। ও যে একেবারে মেয়েদের নিজের কীর্তি । তাই যখন দেখি শরীরটা কষ্ট পাইতেছে তখন এত সহজে আমাদের মন কাদিয়া ਚੋਂ " আমি বলিলাম, “তাই যারা কেবল মন লইয়া থাকে শরীরের অভিভাবক তোমাদের তারা চোখেই দেখিতে পায় না।” দামিনী দৃপ্ত হইয়া বলিয়া উঠিল, “পায় না বৈকি। তার আবার এমন করিয়া দেখে যে, সে একটা অনাস্থষ্টি।” মনে মনে বলিলাম, সেই অনাস্থষ্টিটার পরে তোমাদের লোভের সীমা নাই – ওরে ও শ্রীবিলাস, জন্মাস্তরে যেন সৃষ্টিছাড়ার দলে জন্ম নিতে পারিস এমন পুণ্য কর ।