পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক মাধুর্বে তোমার । বাজিবে তোমার স্বর সর্ব দেহে মনে । জীবনের প্রতি স্থথে পড়িবে তোমার শুভ্ৰ হাসি, প্রতি দুখে পড়িবে তোমাকুম জল, প্রতি কাজে রবে তব শুভহস্ত দুটি, গৃহমাঝে জাগায়ে রাখিবে সদা স্বমঙ্গল জ্যোতি । এ কি শুধু বাসনার বিফল মিনতি, কল্পনার ছল । কার এত দিব্য জ্ঞান, কে বলিতে পারে মোরে নিশ্চয় প্রমাণ— পূর্বজন্মে নারীরূপে ছিলে কি না তুমি আমারি জীবন-বনে সৌন্দর্যে কুহুমি’ প্রণয়ে বিকশি" । মিলনে আছিলে বাধা শুধু এক ঠাই, বিরহে টুটিয়া বাধা আজি বিশ্বময় ব্যাপ্ত হয়ে গেছ প্রিয়ে, তোমারে দেখিতে পাষ্ট সর্বত্র চাহিয়ে । ধূপ দগ্ধ হয়ে গেছে, গন্ধ বাষ্প তার পূর্ণ করি ফেলিয়াছে আজি চারিধার । গৃহের বনিতা ছিলে—টুটিয়া অভ্যালয় বিশ্বের কবিতারূপে হয়েছ উদয়,— তৰু কোন মায়া-ডোরে চির সোহাগিনী হৃদয়ে দিয়েছ ধরা, বিচিত্র রাগিণী জাগায়ে তুলিছ প্রাণে চিরস্মৃতিময় । তাই তো এখনো মনে অাশা জেগে রয় অণ বার তোমারে পাব পরশবন্ধনে । এমনি সমস্ত বিশ্ব প্রলয়ে স্বজনে জলিছে নিবিছে, যেন খদ্যোতের জ্যোতি, কখনো বা ভাবময়, কখনো মুরতি । ఏ4