পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক গেল চলি’ সত্যকাম, ঘন-অন্ধকার বন-বীথি দিয়া,—পদব্রজে হয়ে পার ক্ষীণ স্বচ্ছ শাস্ত সরস্বতী, বালুভীরে সুপ্তিমেীন গ্রামপ্রাস্তে জননী-কুটীরে করিলা প্রবেশ । ঘরে সন্ধ্যাদীপ জালা দাড়ায়ে দুয়ার ধরি’ জননী জবালা পুত্রপথ চাহি ; হেরি’ তারে বক্ষে টানি’ অগস্ত্ৰাণ করিয়া শির কহিলেন বাণী কল্যাণ কুশল । শুধাইলা সত্যকাম— “কহ গো জননী, মোর পিতার কী নাম, কী বংশে জনম ? গিয়াছিন্ত দীক্ষাতরে গৌতমের কাছে,—গুরু কহিলেন মোরে,— ‘বংস, শুধু ব্রাহ্মণের আছে অধিকার ব্রহ্মবিদ্যালাভে ।”—মণতঃ, কী গোত্র আমার ।” শুনি’ কথা মুকুকণ্ঠে অবনত মুখে কহিলা জননী,—“যৌবনে দারিদ্র্যহুখে বহু পরিচর্য। করি’ পেয়েছিল্ক তোরে, জন্মেছিস ভর্তৃর্ণহীনা জবালার ক্রোড়ে, গোত্র তব নাহি জানি, তাত ।” পর-দিন তপোবন-তরুশিরে প্রসন্ন নবীন জাগিল প্রভাত । ষত তাপসবালক, শিশির-সুস্নিগ্ধ যেন তরুণ আলোক, ভক্তি-অশ্ৰু-ধৌত যেন নব পুণ্যচ্ছট,— প্রাতঃস্নাত স্নিগ্ধচ্ছবি আৰ্দ্ৰসিক্তজট,— শুচিশোভন সৌম্যমূর্তি সমুজ্জল কায় বসেছে বেষ্টন করি বৃদ্ধ বটচ্ছায় >8S)