পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক পুরাতন ভূতা ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর । যা-কিছু হারায়, গিরি বলেন, “কেষ্ট বেটাই চোর ।” উঠিতে বসিতে করি বা পাস্ত, শুনেও শোনে না কানে । যত পায় বেত, না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে । বড় প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীংকার করি’ “কেষ্ট,”— যত করি তাড়া, নাহি পাই সাড়া, খুজে ফিরি সারা দেশটা ৷ একখান| দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা ক’রে আনে, তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে । যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধ । মহাকলরবে গালি দিই যবে “পাজি হতভাগা গাধা” দরজার পাশে দাড়িয়ে সে হাসে, দেখে জ’লে যায় পিত্ত । তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার—বড় পুরাতন ভূত্য ৷ ঘরের কত্রী রুক্ষ-মুতি, বলে “আর পারি নাকো, রহিল তোমার এ ঘর দুয়ার কেষ্টারে লয়ে থাকে । ন মানে শাসন, বসন বাসন অশন আসন যত কোথায় কী গেল, শুধু টাকাগুলো যেতেছে জলের মতো । গেলে সে বাজার, সারাদিনে আর দেখা পাওয়া তার ভার,— করিলে চেষ্টা কেষ্ট ছাড়া কি ভূত্য মেলে না আর ।” শুনে মহারেগে ছুটে যাই বেগে, আমি তার টিকি ধ'রে,— বলি তারে “পাজি, বেরে। তুই আজই দূর করে দিতু তোরে।” డా চলে যায়, ভাবি গেল দায় ;–পর-দিন উঠে দেখি ই কাটি বাড়ায়ে রয়েছে দাড়ায়ে বেটা বুদ্ধির টেকি । প্রসন্ন মুখ, নাহি কোনো দুখ, অতি অকাতর চিত্ত, ছাড়ালে না ছাড়ে, কী করিব তারে, মোর পুরাতন ভূত্য । У е